পদ্য সৃজনশীল

সুখ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১।

আলিম ও জামিল দুই ভাই। প্রবাসে গিয়ে আলিম প্রচুর সম্পদের মালিক হয়ে দেশে ফিরেছেন। বাড়ি-গাড়ি সবই করেছেন। নিজের সুখের সকল ব্যবস্থাই করেছেন। অপরদিকে জামিল কেবল নিজের সুখ নিয়েই ব্যস্ত নন। পরিবার ও পাড়া প্রতিবেশীর সুখে-দুঃখে তিনি এগিয়ে যান। অন্যের উপকার করার সুযােগ পেলে সুখী হন।

ক. ‘অবনী’ শব্দের অর্থ কী?

খ. সংসারকে সমর-অন বলা হয়েছে কেন?

গ. উদ্দীপকের জামিল সুখ’ কবিতায় বর্ণিত সুখী হবার কোন প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করেছে- ব্যাখ্যা কর।

ঘ. ‘আলিমের সুখ প্রকৃত সুখ নয়।’- সুখ কবিতার আলােকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

১নং প্রশ্নের উত্তর

ক। অবনী’ শব্দের অর্থ পৃথিবী বা ধরা।

খ। জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য অনেক সংগ্রাম ও সংকট মােকাবিলা করতে হয় বলে সংসারকে সমর-অন বলা হয়েছে।

সব মানুষই জীবনে সুখী হতে চায়। কিন্তু সুখ সহজে ধরা দেয় না। এর জন্য নানা সংকট মােকাবিলা করতে হয়। অনেক দুঃখ-যন্ত্রণা সহ্য করে, সংকট মােকাবিলা করে জীবনসংগ্রামে সফলতার মাধ্যমেই সুখ অর্জিত হয়। এ কারণেই সংসারকে সমর-অঙ্গান বলা হয়েছেন।

গ। উদ্দীপকের জামিল সুখ’ কবিতায় বর্ণিত অন্যের উপকারের মধ্যে নিজের সুখ নিহিত সুখী হওয়ার এই প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করেছে।

মানুষ স্বার্থপরভাবে শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে, অন্যের ক্ষতি করে হলেও নিজের সুখের আশায় ধনসম্পদ বাড়াতে থাকে। কিন্তু মানুষের কল্যাণ সাধনের মধ্যেই আসলে প্রকৃত সুখ নিহিত।

‘সুখ’ কবিতায় কবি প্রকৃত সুখী হওয়ার উপায় ব্যাখ্যা করেছেন। কবি মনে করেন, পরের কল্যাণার্থে মরণ হলেও তাতে সুখ রয়েছে। শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য এ পৃথিবীতে কেউ আসেনি। কবির সুখী হওয়ার এই প্রক্রিয়াটিই উদ্দীপকে জামিলের মধ্যেও দেখা যায়। উদ্দীপকের জামিল শুধু নিজের সুখ নিয়েই ব্যস্ত নন। পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীর সুখে-দুঃখে তিনি এগিয়ে যান। অন্যের উপকার করার মধ্যেই তিনি সুখ খুঁজে পান।

ঘ।  “আলিমের সুখ প্রকৃত সুখ নয়।”- সুখ’ কবিতা রআলােকে মন্তব্যটি যথার্থ।

এ পৃথিবীতে কিছু মানুষ সুখের আশায় ধন-সম্পদের পরিমাণ বাড়াতেই থাকেন, কিন্তু সুখ খুঁজে পান না। অন্যদিকে যেসব ব্যক্তি শুধু নিজেদের চিন্তায় মগ্ন না থেকে অন্য সবার প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করেন, তারা প্রকৃত সুখ খুঁজে পান।

উদ্দীপকের আলিম প্রবাসে গিয়ে প্রচুর সম্পদের মালিক হয়ে দেশে ফিরেছেন, বাড়ি-গাড়ি সবই করেছেন, নিজের সুখের সব ব্যবস্থাই করেছেন। কিন্তু এটাকেই প্রকৃত সুখ বলা যায় না। ‘সুখ’ কবিতায় কবি বলেছেন, শুধু নিজের স্বার্থচিন্তায় মগ্ন থাকলে সুখ পাওয়া যাবে না। অন্যের কথাও চিন্তা করতে হবে। তবেই প্রকৃত সুখ পাওয়া যাবে। অন্যের কল্যাণ সাধনেই প্রকৃত সুখ।

উদ্দীপকের আলিম শুধু নিজের সুখের কথা ভেবেছেন। ‘সুখ’ কবিতায় বলা হয়েছে, শুধু নিজের নয়, পরের জন্যও ভাবতে হবে। তাই ‘সুখ’ কবিতার আলােকে বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।

Also

প্রশ্ন ২।

এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে অনিমা হতাশ হয়ে পড়ে। অনিমার বান্ধবী শারমিন বলল, সােহেলি অনন্যর বাড়িতে কাজ করে ফাকে ফাকে পড়ে ভালােভাবে বিএ পাস করেছে। সুতরাং মানুষের অসাধ্য কিছুই নেই। অর্নিমা, তুমি হাল ছেড়ে দিও না। আমার বিশ্বাস, চেষ্টা করলে তুমি ভালাে ফল করতে পারবে।

ক। সংসারকে কবি কী বলেছেন?

খ। তার মতাে সুখ কোথাও কি আছে?’- কবি এ চরণে কোন সুখের কথা বুঝিয়েছেন?

গ. অনিমার হতাশার মধ্যে ‘সুখ’ কবিতার যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তার বর্ণনা দাও।

ঘ. “শারমিনের চিন্তা-ভাবনা কবির ‘যাও বীরবেশে কর গিয়া রণ’- এ চরণের ভাবকেই যেন ধারণ করেছে।” – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক। সংসারকে কবি সমর-অন বলেছেন।

খ। আলােচ্য চরণে কবি অন্যের মঙ্গল করে প্রকৃত সুখ লাভের কথা বলেছেন।

জগতে যারা কেবল নিজের সুখ খোঁজেন তারা জীবনে দুঃখ-যন্ত্রণা দেখে ভাবেন মানুষের জীবন নিরর্থক। মূলত এ ধারণা ভুল। জীবনের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য আরও বিস্তৃত, অনেক মহৎ। অন্যের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে নানা দুঃখ-যন্ত্রণা সয়ে, সংকট মােকাবিলা করে জীবনসংগ্রামে সফলতার মাধ্যমেই প্রকৃত সুখ অর্জিত হয়।

গ। অনিমার হতাশার মধ্যে ‘সুখ’ কবিতায় বর্ণিত সুখের পিছনে মানুষের নিরর্থক ছােটাছুটির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

মানুষের জীবনের লক্ষ্যই সুখী হওয়া। এই সুখের জন্য মানুষ নানা রকম প্রচেষ্টা চালায়। আর কাক্ষিত সুখ না পেলে মনে করে জীবন ব্যর্থ।

‘সুখ’ কবিতায় কবি বলেছেন, কিছু মানুষ সুখের দেখা না পেয়ে ভাবে, পৃথিবী বিষাদময়; দুঃখে জ্বলে মরতেই কেবল বুঝি মানুষের জন্ম হয়েছে। জীবনের লক্ষ্য স্থির করে সংগ্রাম করতে প্রস্তুত থাকে না বলেই তাদের এ রকম মনে হয়। উদ্দীপকের অনিমার হতাশার মধ্যে সুখ’ কবিতার উপযুক্ত বিষয়টিই প্রতিফলিত ।

ঘ। শারমিনের চিন্তা-ভাবনা কবির ‘যাও বীরবেশে কর গিয়া রণ’- এ চরণের ভাবকেই ধারণ করেছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

সুখ অর্জন করে নিতে হয়। পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের জন্যই আছে, উচ্চ লক্ষ্য, উচ্চ সুখ। বিধাতা এ পৃথিবীতে কাউকে কাঁদানোের জন্য সৃষ্টি করেননি। নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই মানুষ প্রকৃত সুখের দেখা পেতে পারে।

উদ্দীপকের শারমিনের বান্ধবী অনিমা এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। শারমিন মনে করে, মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। চেষ্টা করলে মানুষ সবকিছু করতে পারে। হাল ছেড়ে দিলে লক্ষ্যে পৌঁছানাে যায় না। ‘সুখ’ কবিতায় কবি বলেছেন, সংসার একটা যুদ্ধক্ষেত্র। এখানে বীরবেশে যে যুদ্ধ করতে পারবে সে-ই জিতবে এবং প্রকৃত সুখ লাভ করবে।

উদ্দীপকের শারমিনের মতে, লক্ষ্য অনুযায়ী পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই। ‘সুখ’ কবিতায় কবি বীরবেশে সংকট মােকাবিলা করতে বলেছেন। তাই বলা যায়, ‘সুখ’ কবিতার প্রশ্নোত্ত চরণের ভাবকেই শারমিন চিন্তা-চেতনায় ধারণ করেছে।

 

প্রশ্ন ৩।

এণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,

এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযােগ্য করে যাব আমি

নবজাতকের কাছে এ-আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

অবশেযে সব কাজ শেষে।

আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে

করে যাব আশীর্বাদ। [তথ্যসূত্র : ছাড়পত্র-সুকান্ত ভট্টাচার্য]

ক. ‘ধরা’ শব্দের অর্থ কী?

খ. মানুষ কেন কষ্টের আগুনে জ্বলে কেঁদে মরছে?

গ. উদ্দীপকে ‘সুখ’ কবিতার কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে?

ঘ. উদ্দীপকের কবির প্রতিজ্ঞায় আলােচ্য কবিতার কবির আকাল প্রকাশ পেয়েছে কি?

৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক। ‘ধরা’ শব্দের অর্থ পৃথিবী।

খ। সুখ-প্রত্যাশী মানুষ সুখকে নিজের মতাে করে খুঁজতে গিয়েই কস্টের আগুনে জ্বলে কেঁদে মরছে।

জগতের সব মানুষের মাঝেই সুখী হওয়ার ইচ্ছা থাকে। এ কারণে। সবাই দিন-রাত সুখ খুঁজতে চেষ্টা করে। এতে সুখের পরিবর্তে মানুষের মাঝে জন্ম নেয় দুঃখ। বস্তুতপক্ষে দুঃখ-কষ্ট-ব্যর্থতা ইত্যাদি জয় করার মাধ্যমে মানুষের মাঝে সুখ ধরা দেয়। অতএব এ জগতে। সুখ খুঁজতে গিয়েই মানুষ কষ্টের আগুনে জ্বলে কেঁদে মরছে।

গ। উদ্দীপকে ‘সুখ’ কবিতার পরার্থপরতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। মানবজীবনের, সার্থকতা নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার মাঝে নেই। মানুষের কল্যাণ করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে প্রকৃত সুখ। মানুষ হিসেবে মানবজীবনের সফলতা হলাে মানব কল্যাণে কাজ করা।

উদ্দীপকের কবিতাংশে পরার্থে নিবেদিত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি চান পৃথিবী থেকে সমস্ত জঞ্জাল সরিয়ে পৃথিবীকে শিশুর বসবাসের উপযােগী করে যাবেন। নবজাতকের কাছে তিনি। অঙ্গীকার করেন তিনি এই পৃথিবী তাদের জন্য সুন্দর করবেন এবং তাদের আশীর্বাদ করে যাবেন যাতে তারা সুখে থাকে। সুখ কবিতায় কবি বলেছেন অন্যের কল্যাণে নিজের স্বার্থ ত্যাগ করার কথা। কারণ অন্যের উপকারে নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই রয়েছে জীবনের প্রকৃত সুখ। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে ‘সুখ কবিতার পরার্থপরতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

ঘ। হ্যা, উদ্দীপকের কবির প্রতিজ্ঞায় আলােচ্য কবিতার কবির আকাকা প্রকাশ পেয়েছে।

নিজের সুখ নিয়ে ব্যস্ত থাকা মানুষের কর্তব্য নয়। অন্যের জন্য স্বার্থ ত্যাগ করে কাজ করার মাঝেই রয়েছে জীবনের সার্থকতা। মানুষকে ভালােবাসা ও সেবা করার মধ্যেই রয়েছে মানুষের জীবনের সার্থকতা।

‘সুখ’ কবিতায় কবি নিজের স্বার্থে নিমগ্ন না থেকে পরের কল্যাণে কাজ করার কথা ব্যক্ত করেছেন। কবি বলেন। সমাজের প্রতিটি মানুষ একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই শুধু নিজের জন্য নয়, কাজ করতে হবে অন্যের জন্য, জগতের মঙ্গলের জন্য। কারণ অন্যের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখ। উদ্দীপকের কবিও প্রতিজ্ঞা করেন যে তিনি প্রাণপণে পৃথিবী থেকে সমস্ত জঞ্জাল সরিয়ে ফেলবেন। এই পৃথিবীকে শিশুদের বসবাসযােগ্য করে যাবেন। নিজের কথা না ভেবে নবজাতকের কাছে এই পৃথিবী সুন্দর করার জন্য কবি যে প্রতিজ্ঞা করেছেন তা অতুলনীয়।

উদ্দীপকের কবির প্রতিজ্ঞা মানবকল্যাণকে নির্দেশ করে যা আলােচ্য কবিতার কবির আকাক্ষা। কারণ কবিও তাঁর কবিতার মধ্য দিয়ে বলতে চেয়েছেন নিজের জন্য নয়, অন্যের কল্যাণে নিজেকে নিয়ােজিত করতে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের প্রতিজ্ঞায় আলােচ্য কবিতার কবির আকাক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।

 

প্রশ্ন ৪ | 

প্রতিবেশী দাসদাসি আত্মীয় স্বজন,

ভালােবাসি সবে কহ সুমিষ্ট বচন।

দিও না কাহারে দুখ,

অনন্য দান করি সুখ,

নিজেরে মাননা গাে সুখী, বালক সুজন।

[তথ্যসূত্র : উপদেশ— স্বর্ণকুমারী দেবী।]

ক. কিসের মতাে সুখ অন্য কোথাও নেই?

খ. “এ জীবন মন সকলি দাও”- কবি চরণটিতে কী বলতে চেয়েছেন?

গ. উদ্দীপকের উপদেশ বাণীতে ‘সুখ’ কবিতার কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের বিবরণে ‘সুখ’ কবিতার সামগ্রিক ভাব প্রতিফলিত হয়নি।”- মন্তব্যটির পরিপ্রেক্ষিতে তােমার যুক্তি উপস্থাপন কর।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক। পরের জন্য স্বার্থ ত্যাগের মতাে সুখ অন্য কোথাও নেই।

খ। আলােচ্য চরণে কবি গরের কল্যাণে সর্ব ত্যাগ করতে বলেছেন।

পৃথিবীর সব মানুষই নিজেদের জন্য সুখ খুঁজতে ব্যস্ত। এ কারণেই আত্মকেন্দ্রিক লােকেরা দুঃখ পেয়ে থাকে। প্রকৃত সুখের সন্ধান তখনই পাওয়া সম্ভব হয় যখন মনের মধ্যে কোনাে স্বার্থপরতা থাকে না। নিজের সবকিছু বিলিয়ে অন্যের উপকারে আসতে পারলেই কেবল সুখী হওয়া সম্ভব। আলাে চরণে কবি একথাই বলতে চেয়েছেন।

গ। উদ্দীপকের উপদেশ বাণীতে সুখ কবিতায় বর্ণিত প্রকৃত সুখ খুজে পাওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। এ কারণে বিবেক-বুদ্ধি দ্বারা চিন্তা করে কাজ করা উচতি। এমন কাজ করা উচিত যেন তাতে স্বার্থপরতা না থাকে। বরং অন্যের কল্যাণের দিকটি প্রধান হয়ে ওঠে।

উদ্দীপকের কবিতাংশে একটি বালকের প্রতি কবির উপদেশ বাণী রয়েছে। প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, দাসদাসীসহ সবার সঙ্গে ভালাে আচরণ করার কথা বলা হয়েছে। সুন্দরভাবে সবার সঙ্গে মিষ্ট ভাষায় কথা বলার জন্য উপদেশ প্রদান করা হয়েছে। এভাবেই সে নিজেকে প্রকৃত সুখী করে গড়ে তুলতে পারবে। ‘সুখ’ কবিতায়ও বলা হয়েছে স্বার্থহীনভাবে পরের কল্যাণে কাজ করলে সুখী হওয়া যায়। সবসময় নিজের জন্য সুখ সন্ধান করলে এটিই দুঃখের ও অনুশােচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তাই অপরকে সুখী করতে নিজেকে নিয়ােজিত করতে পারলে প্রকৃত সুখী হওয়া যায়। কবিতার এ বিষয়টিই উদ্দীপকের উপদেশ বাণীতে ফুটে উঠেছে।

ঘ। “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের বিবরণে ‘সুখ’ কবিতার সামগ্রিক ভাব প্রতিফলিত হয়নি।”- মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।

সুখের বিষয়টি নির্ভর করে মানুষের মনের ওপর। অনেকের টাকাপয়সা ও অন্যান্য দামি সামগ্রী থাকার পরও তারা অসুখী জীবনযাপন করেন। আবার অনেক মানুষ আছেন, যারা পরের কল্যাণে কাজ করে নিজেদের সুখী ভাবেন।

উদ্দীপকে একজন অভিভাবকের কোমলমনা এক ছেলেকে উপদেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরের কল্যাণের জন্য বা পরের দুঃখকে দূর করার জন্য বালকের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে সে নিজেকে সুখী ভাবতে পারবে। সুখ’ কবিতায় কবি কামিনী রায় মানুষের সুখী হওয়ার ও দুঃখী হওয়ার নানা বিষয় তুলে ধরেছেন। মানুষ যখন স্বার্থান্ধ হয়ে কাজ করবে তখনই তার দুঃখ শুরু হবে এবং অনুশােচনা হতে থাকবে। কিন্তু পরের কল্যাণে জীবন ও মন তথা সর্বষ দিয়ে কাজ করলে একজন মানুষ প্রকৃত সুখী হয়ে উঠবে।

উদ্দীপকে অন্যকে দুঃখ না দেওয়ার মধ্য দিয়ে নিজেকে সুখী করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে সুখ’ কবিতায় কবি পরের কল্যাণে সর্বষ বিলিয়ে দিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়ে সুখী হতে বলেছেন। এছাড়াও কবিতায় সুখী হওয়ার ও দুঃখী হওয়ার নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যা উদ্দীপকে নেই। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নে উল্লিখিত মন্তব্যটি যথার্থ।

 

প্রশ্ন ৫।

ভরণদাপ্রসাদ সাহা বাংলাদেশের বিখ্যাত সমাজসেবক এবং দানবীর ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আর, পি, সাহা নামেই তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে মানসম্পন্ন হাসপাতাল, একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গরিবদের কল্যাণার্থে ট্রাস্ট গঠন করেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক অপহৃত হন। পরবর্তীতে তার আর কোনাে খোঁজ পাওয়া যায়নি।

[তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া]

ক. কবি কিসের বেশে যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে বলেছেন?

খ. সমর-অঙ্গন সংসার এই”-কবি একথা বলেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকের রণদাপ্রসাদ সাহার মধ্যে ‘সুখ’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. ‘রণদাপ্রসাদ সাহার কাজে সুখ’ কবিতার কবির প্রত্যাশাই ব্যক্ত হয়েছে।”- মূল্যায়ন কর।

৫নং প্রশ্নের উত্তর

ক। কবি বীরের বেশে যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে বলেছেন।

খ। সংসারে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয় বলে কবি “সমর-অঙ্গন সংসার এই” কথাটি বলেছেন।

নানা দুঃখ, যন্ত্রণা, সংকটে পরিপূর্ণ এই সংসার। এসব প্রতিকূল পরিস্থিতি মােকাবিলা করেই সংসারে টিকে থাকতে হয়। এই সংসার যেন ঠিক এক যুদ্ধক্ষেত্র। তাই কবি আলােচ্য কথাটি বলেছেন। উদ্দীপকের রণদাপ্রসাদ সাহার মধ্যে সুখ’ কবিতার অনন্যর কল্যাণ কামনার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।

নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার মধ্যে কোনাে সার্থকতা নেই। যারা নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে অন্যের কল্যাণ সাধনায় মগ্ন থাকেন তারাই সফল। পৃথিবীর বুকে যুগে যুগে তারাই অক্ষয় স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকেন।

‘সুখ’ কবিতায় কবি বলেছেন, যে ব্যক্তি কেবল নিজেকে নিয়ে ভাবে সে আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর। আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতার মধ্যে কোনাে সুখ নেই। যে ব্যক্তি অন্যের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে ভালােবাসা, সেবা ও কল্যাণের মাধ্যমে জগতের মঙ্গল সাধন করেন তিনিই প্রকৃত সুখী। উদ্দীপকে রণদাপ্রসাদ সাহা এই প্রকৃত সুখের সন্ধান পেয়েছেন। তিনি সমাজের কল্যাণের জন্য ভেবেছেন, কাজ করেছেন, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেননি।

ঘ। “রণদাপ্রসাদ সাহার কাজে ‘সুখ’ কবিতার কবির প্রত্যাশাই ব্যক্ত হয়েছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষ জন্ম নিলেই জীবনের সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং প্রতিনিয়ত জীবনকে সার্থক করে তােলার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। ভালােবাসা, সেবা, পরার্থব্রতে নিজেকে নিয়ােগ করে প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে হয়।

‘সুখ’ কবিতায় কবি বলেছেন যে, এ সমাজে প্রত্যেকে একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই কেবল নিজ স্বার্থে মগ্ন হলে চলে না। অন্যের কথাও ভাবতে হয়, অন্যের কল্যাণের জন্য, জগতের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে হয়। উদ্দীপকের রণদাপ্রসাদ সাহার মধ্যে এই বিষয়গুলাে লক্ষ করা যায়। তিনি সমাজের কল্যাণের জন্য বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল স্থাপন করেছেন। গরিবদের কল্যাণার্থে তিনি একটি ট্রাস্টও গঠন করেন।

‘সুখ’ কবিতায় কবি প্রত্যাশা করেছেন যে, মানুষ আত্মকেন্দ্রিকতা বর্জন করে অন্যের কল্যাণে নিজেকে নিয়ােজিত করবে। রণদাপ্রসাদ সাহার সমাজকল্যাণমূলক কাজে কবির প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রণদাপ্রসাদ সাহার কাজে, ‘সুখ’ কবিতার কবির প্রত্যাশাই ব্যক্ত হয়েছে।     

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button