গদ্য সৃজনশীল

মিনু গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১।

সাত বছরের মেয়েটাকে দুনিয়ায় ফেলে রেখে মা গেল মারা। কষ্ট ঘােচাবে ভেবে নতুন বৌ ঘরে আনে কৃষক। সৎমা অকারণেই গাল দেয় আর হাত তােলে মেয়ের গায়ে। অবসর নেই। সারাদিন কেবল ফরমাস খাটায় সমা। মেয়ের পেটে ভাত কেন, এক কণা খুদও পড়েনি সারাদিন। আপন মাকে মনে পড়ে ওর।

[তথ্যসূত্র : ঘুঘু-হরিপদ দত্ত]

ক. বনফুলের প্রকৃত নাম কী?

খ. শুকতারাকে মিনুর সই বলার কারণ কী? বুঝিয়ে লেখ।

গ. উদ্দীপকের মেয়েটির সঙ্গে ‘মিনু’ গল্পের কার মিল রয়েছে?

ঘ. অমানবিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের সত্য ও ‘মিনু’ গল্পের যােগেন বসাক সমান্তরাল-মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

১নং প্রশ্নের উত্তর

ক। বনফুলের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখােপাধ্যায়।

খ। শুকতারা মিনুর মতােই খুব ভােরে জেগে ওঠে বলে সে  শুকতারাকে সই বলেছে।

পিতৃ-মাতৃহীন মিনু দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকে। বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম সে একাই করে। তাই প্রতিদিন ভােরে মিনুকে ঘুম থেকে উঠতে হয়। এরপর প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে শুকতারার সাথে। সে মনে করে শুকতারাও হয়তাে তার মতােই কয়লা ভাঙার কাজের জন্য ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। মিনু এ কারণেই শুকতারাকে সই বলেছে।

গ। উদ্দীপকের মেয়েটির সঙ্গে ‘মিনু’ গল্পের মিনুর মিল রয়েছে।

একজন শিশুর কাছে বাবা-মা পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। পৃথিবীতে বাবা-মা না থাকলে একজন সন্তান অসহায় হয়ে পড়ে। তারা একা একা জীবনযুদ্ধে লিপ্ত হয়।

উদ্দীপকের মেয়েটির বয়স সাত বছর। তার মা নেই। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে ঘরে তার সৎমা নিয়ে আসে। সৎমা মেয়েটিকে অকারণে গাল দেয়। গায়ে হাতও তােলে। তার কোনাে অবসর নেই। সারা দিন কেবল ফরমাশ খাটে। সারা দিন না খেয়েও থাকে। তার মাকে খুব মনে পড়ে। উদ্দীপকের মেয়েটির মতাে মিনু’ গল্পের মিনুও অসহায়। তার বয়স দশ বছর। তার বাবা-মা নেই। দূরসম্পর্কের পিসির বাড়িতে সে পেটে-ভাতে থাকে। বাড়ির সব কাজ নিজের হাতে করে। তাই বলা যায় যে, অসহায়ত্ব ও অবস্থাগত দিক থেকে উদ্দীপকের মেয়েটির সঙ্গে ‘মিনু’ গল্পের মিনুর মিল রয়েছে।

ঘ। অমানবিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের সত্য ও ‘মিনু’ গল্পের যােগেন বসাক সমান্তরাল-মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষের একমাত্র শান্তির আশ্রয় তার পরিবার। কিন্তু অনেক সময় পিতা-মাতার অনুপস্থিতিতে তা অসহনীয় হয়ে ওঠে। প্রতিকূল পরিবেশে তাদের নানা ধরনের কষ্টকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়।

উদ্দীপকে মা-মরা মেয়েটি তার সম্মায়ের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়। সৎমা মেয়েটিকে ভালাে করে খেতে দেয় না। তার গায়ে হাত তােলে এবং অকারণে গালাগালি করে। মিনু’ গল্পের যােগেন বসাক মিনুকে আশ্রয় দেয়। কিন্তু তার বিনিময়ে বাপ-মা মরা মেয়েটিকে দিয়ে বাড়ির সব কাজ করিয়ে নেয়। এককথায় মিনুকে দিয়ে চাকরানির কাজ করায়। অসহায় মিনুও মুখ বুঝে সব কাজ করে।

উদ্দীপকের সত্য ও ‘মিনু’ গল্পের যােগেন বসাক উভয়েই অমানবিক ও নিষ্ঠুর। তারা মিনু ও অসহায় মেয়েটির অসহায়ত্বের সুযােগ নেয়। তারা চিন্তা ও চেতনায় এক। তাই বলা যায় যে, মন্তব্যটি যথার্থ।

 

প্রশ্ন ২।

মিছিলে পা মিলিয়ে সেও চলেছে শহিদ মিনারে ফুল দিতে। সবার সঙ্গে গলা মিলিয়ে গেয়ে চলেছে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানাে একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি? কিন্তু তার গলা দিয়ে কথা তাে ফোটে না, শুধু শব্দ হয় আঁ আঁ আঁ আঁ। আসলে কথা ফুটবে কী করে? লখা যে জন্মবােবা। বাংলা বুলি তার মুখে ফুটতে পায় না।

[তথ্যসূত্র :লখার একুশে- আবুবকর সিদ্দিক]

ক. মিনু কিসের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তােলে?

খ. মহৎ হয়ে সুবিধাই হয়েছে যােগেন বসাকের’- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের লখা এবং মিনু’ গল্পের মিনুর সাদৃশ্য আলােচনা কর।

ঘ. উদ্দীপকের লখা মিনু’ গল্পের মিনুর কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও গল্পের সামগ্রিক দিক উদ্দীপকে অনুপস্থিত।”-বিশ্লেষণ কর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক। মিনু প্রকৃতির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তােলে।

খ। ‘মহৎ হয়ে সুবিধাই হয়েছে যােগেন বসাকের’- উক্তিটি দ্বারা সুবিধাভােগী যােগেন বসাকের মুখােশ উন্মােচন করা হয়েছে।

যােগেন বসাক মিনুর পিসেমশাই। মিনু মাকে হারানাের পর এ বাড়িতে চলে আসে। লােকে মনে করে যােগেন বসাক মিনুকে আশ্রয় দিয়ে মহৎ কাজ করেছে। কিন্তু সুবিধাভােগী যােগেন বসাক মহৎ উদ্দেশ্যে মিনুকে আশ্রয় দেয়নি। সারাদিন খাটানাের জন্যই মূলত আশ্রয় দিয়েছে। আলােচ্য উক্তিটি এটাই প্রকাশ করে।

গ। কথা বলতে না পারার দিক থেকে উদ্দীপকের লখা এবং “মিনু’ গল্পের মিনুর সাদৃশ্য রয়েছে।

এই পৃথিবীতে বিচিত্র রকমের মানুষ বসবাস করে। কেউ সুস্থ, কেউবা পুরাে সুস্থ নয়। যারা কথা বলতে পারে না তাদের প্রতি সহযােগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া আমাদের কর্তব্য।

উদ্দীপকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশাের লখার কথা বলা হয়েছে। প্রভাতফেরির মিছিলে সেও মানুষের সঙ্গে পা মিলিয়ে শহিদ মিনারে ফুল দিতে যায়। কিন্তু সবার সঙ্গে গলা মিলিয়ে সে গান গাইতে পারে না। লখা কথা বলবে কী করে, সে যে জন্ম থেকেই বােবা। ‘মিনু গল্পের ছােট্ট মেয়ে মিনুও বাকপ্রতিবন্ধী। বাবা-মা হারা মেয়ে মিনু কথা বলতে পারে না। দূরসম্পর্কের এক পিসিমার বাড়িতে অনেক কষ্ট করে তাকে থাকতে হয়। কথা না বলতে পারার কষ্ট মিনু প্রকৃতির সঙ্গে ভাগ করে নেয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের লখা এবং আলােচ্য গল্পের মিনু উভয়ই বাকপ্রতিবন্ধী। আর এ দিক থেকেই উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে।

ঘ। “উদ্দীপকের লখা ‘মিনু’ গল্পের মিনুর কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও গল্পের সামগ্রিক দিক উদ্দীপকে অনুপস্থিত।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

আমাদের সমাজে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী শিশু-কিশােরদের দুঃখকষ্টের সীমা-পরিসীমা থাকে না। প্রত্যেক মানুষের উচিত তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া।

‘মিনু’ গল্পের মিনু বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। বাবা-মা না থাকায় তার জীবনে নেমে আসে দুর্বিষহ কষ্ট। দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে কষ্ট করে থাকলেও মিনু নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে না। কথা না বলতে পারার কষ্ট সে প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি পাতিয়ে দূর করতে চেয়েছে। উদ্দীপকেও বাকপ্রতিবন্ধী কিশাের লখার কথা বলা হয়েছে। লখা কথা বলতে না পারলেও সবার সঙ্গে পা মিলিয়ে শহিদ মিনারে ফুল দিতে যায়।

উদ্দীপকে ‘মিনু’ গল্পের সঙ্গে মিল রেখে বাকপ্রতিবন্ধী কিশাের লখার অস্ফুট আর্তনাদের কথা বলা হয়েছে। জন্ম থেকে বােবা লখার মুখে কথা ফোটে না। মিনু’ গল্পের মিনুও কথা বলতে পারে না। কিন্তু এই বিষয়টি ছাড়াও আলােচ্য গল্পে বাবা-মা হারা মিনুর কষ্ট, প্রকৃতির সঙ্গে তার একাত্মতা এবং পিতার জন্য অপেক্ষায় থাকা তার মনঃকষ্টের বর্ণনা রয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের লখা ‘মিনু’ গল্পের মিনুর কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও গল্পের সামগ্রিক দিক উদ্দীপকে অনুপস্থিত রয়েছে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

 

প্রশ্ন ৩। 

কিশােরী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয় নিংড়ানাে ভালােবাসা ও মমত্ববােধে গল্পটি অমর হয়ে আছে। সুভা কথা বলতে পারে না। মা মনে করেন, এ-তার নিয়তির দোষ, কিন্তু বাবা তাকে ভালােবাসেন। আর কেউ তার সঙ্গে মেশে না খেলে না। কিন্তু তার বিশাল একটি আশ্রয়ের জগৎ আছে। যারা কথা বলতে পারে না সেই পােষা প্রাণীদের কাছে সে মুখর। তাদের সে খুবই কাছের জন। আর বিপুল নির্বাক প্রকৃতির কাছে সে পায় মুক্তির আনন্দ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মূলত প্রতিবন্ধী মানুষের আশ্রয়ের জন্য একটি জগৎ তৈরি করেছেন এবং সেই সঙ্গে তাদের প্রতি আমাদের মমত্ববােধের উন্মেষ ঘটাতে চেয়েছেন।

[তথ্যসূত্র : পাঠ-পরিচিতি সভা]

ক. আগুনের লাল আভাকে মিনুর কী মনে হয়?

খ. কেন মিনুর সব কথা শােনার দরকার হয় না? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের সুভার সঙ্গে ‘মিনু’ গল্পের কার মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দীপকের ভাবার্থে ‘মিনু’ গল্পের উদ্দেশ্য ও মূলভাব প্রকাশ পেয়েছে।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক। আগুনের লালা আমাকে মিনুর রাক্ষসী মনে হয়।

খ। মিনু ঠোট নাড়া ও মুখের ভাব দেখেই সব বুঝে যায় বলে তার সব কথা শােনার দরকার হয় না।

মিনু জন্ম থেকেই যােবা। সে কথা বলতে পারে না এবং শুনতেও পায় না। কিন্তু চেঁচিয়ে কথা বললে সে শুনতে পায়। আবার অনেক সময় তার পুরাে কথা শােনার দরকার হয় না, কারণ সে মানুষের ঠোট নাড়ানাে দেখে সব বুঝতে পারে। এছাড়াও সে তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমেও অনেক কিছু কল্পনা করে নেয়। এ কারণে মিনুর সব কথা শােনার দরকার হয় না।

গ। বাক্প্রতিবন্ধিতার দিক থেকে উদ্দীপকের সুভার সঙ্গে ‘মিনু’ গল্পের মিনুর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

পৃথিবীতে যারা শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে জন্ম নেয় তারা প্রায়ই সমাজে অবহেলার শিকার হয়। কিন্তু তাদের অক্ষমতার জন্য তাে আর তারা দায়ী নয়। তাই শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রতি আমাদের যত্নশীল ও সহমর্মী হওয়া উচিত।

‘মিনু’ গল্পের মিনু শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মিনু সবার অবহেলার শিকার হয়। সে দূরসম্পর্কের এক পিসিমার বাড়িতে আশ্রিত। কথা বলতে না পারায় সে সেখানে সারা দিন নীরবে কাজ করে যায়। উদ্দীপকেও বাক্প্রতিবন্ধী সুভার কথা বলা হয়েছে। সুভা কথা বলতে না পারার কারণে কেউ তার সঙ্গে মেশে না, খেলে না। তাই বলা যায়, কথা বলতে না পারার দিক থেকে উদ্দীপকের সুড়ার সঙ্গে ‘মিনু’ গল্পের মিনুর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

ঘ। “উদ্দীপকের ভাবার্থে ‘মিনু’ গল্পের উদ্দেশ্য ও মূলভাব প্রকাশ পেয়েছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

আমাদের সমাজে শারীরিক প্রতিবন্ধীরা প্রায়ই অবহেলিত হয়। শারীরিক ত্রুটির কারণে তারা সমাজের অন্য সব স্বাভাবিক মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হয়। আমাদের উচিত তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া।

উদ্দীপকের ভাবার্থে বাম্প্রতিবন্ধী এক কিশােরীর প্রতি ভালােবাসার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। কথা বলতে পারে না বলে কেউ তার সঙ্গে মেশে না, খেলে না। তবে বাবা তাকে ভালােবাসেন। মূলত লেখক বাক্প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি আমাদের মমত্ববােধের উন্মেষ ঘটাতে চেয়েছেন। মিনু’ গল্পেও লেখক শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন। বাকপ্রতিবন্ধী মিনু কথা বলতে পারে না। দূরসম্পৰ্কীয় এক পিসিমার বাড়িতে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়।

“মিনু’ গল্পে অসহায় মিনুর দুঃখ-কষ্ট বর্ণনার মধ্য দিয়ে লেখক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি মমত্ববােধ ও সহানুভূতির প্রয়ােজনীয়তার দিকটি তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকেও লেখক বাম্প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি আমাদের ভালােবাসা ও মমত্ববােধের উন্মেষ ঘটাতে চেয়েছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাবার্থে মিনু গল্পের উদ্দেশ্য ও মূলভাবের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

 

প্রশ্ন ৪।

জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী ফজলুর রহমান। দুটি হাত ও একটি পা নেই। এক পা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে চলাফেরা করতে হয়। তবুও থেমে নেই ফজলুর। প্রবল ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পা দিয়ে লিখে পিএসসিতে ২.১৭ ও জেএসসিতে ৩.৭৫ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের বেলকুচির মিটুয়ানী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। ফজলুরের বাবা সাহেব আলী দিনমজুর। বাড়ি বেলকুচি উপজেলার গােপালপুর গ্রামে। প্রতিদিন তিন কিলােমিটার দূরে স্কুলে এক পা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে যাতায়াত করতে হয় ফজলুরকে। [তথ্যসূত্র : দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ২৮ মার্চ, ২০১৭]

ক. মিনুর হাতুড়ির নাম কী?

খ. শুকতারাকে মিনু সই মনে করে কেন?

গ. উদ্দীপকের ফজলুর এবং মিনু’ গল্পের মিনুর অমিল কোথায়?

ঘ. উদ্দীপক ও ‘মিনু’ গল্পের মধ্যে অমিল থাকলেও গল্পের উদ্দেশ্য ও মূলভাব এক।”- মন্তব্যটি যাচাই কর।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক।  মিনুর হাতুড়ির নাম গদাই।

খ। শুকতারা মিনুর মতােই খুব ভােরে জেগে ওঠে বলে সে শুকতারাকে সই মনে করে।

পিতৃ-মাতৃহীন মিনু দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে আশ্রিত। বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম সে একাই করে। তাই প্রতিদিন ভােরে মিনুকে ঘুম থেকে উঠতে হয়। এরপর তার প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে শুকতারার সাথে। সে মনে করে শুকতারাও হয়তাে তার মতােই কয়লা ভাঙার কাজের জন্য ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। মিনু এ কারণেই শুকতারাকে সই মনে করে।

উদ্দীপকের ফজলুর এবং “মিনু” গল্পের মিনুর জীবনের পথচলার দিক থেকে অমিল দেখা যায়। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও দেখা যায় যে, অনেকেই পড়ালেখা করে নিজেদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সমাজের সব স্তরের মানুষের উচিত এদের পাশে দাড়ানাে।

উদ্দীপকের ফজলুর প্রবল ইচ্ছাশক্তি দিয়ে নিজেকে তুলে ধরেছে সবার সামনে। সে দুই হাত ও এক পা না থাকা সত্ত্বেও পা দিয়ে লিখে পিএসসি ও জেএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। সে এগিয়ে চলার মাধ্যম হিসেবে শিক্ষাকে গ্রহণ করেছে। কিন্তু মিনু তা করেনি। মিনু সেই সুযােগটুকুও পায়নি কারণ সে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত। তাই সে এগিয়ে চলার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে তার যষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে। আর তৈরি করেছে নিজের আলাদা জগৎ। তাই বলা যায়, ফজলুর ও মিনুর জীবনের পথচলার দিক থেকে অমিল রয়েছে।

ঘ। “উদ্দীপক এবং মিনু’ গল্পের মধ্যে অমিল থাকলেও গল্পের উদ্দেশ্য ও মূলভাব এক।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

সব মানুষের জীবনের গতি এক নয়। সবাই যার যার জায়গায় নিজেদের মতাে করে জীবনের সংগ্রাম করে। সবার অবস্থান পৃথিবীতে সমান নয়। তাই প্রত্যেকের জায়গা থেকে প্রত্যেকের সংগ্রাম শ্রদ্ধা ও সম্মানের দাবিদার।

উদ্দীপকে ফজলুর দুই হাত ও এক পা না থাকা সত্ত্বেও এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে স্কুলে যায়। এমনকি সে পা দিয়ে লিখে পিএসসি ও জেএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। এত প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সে তার সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। “মিনু’ গল্পের মিনু কথা বলতে পারে না এবং কানেও শুনতে পায় না। কিন্তু এরপরও সে বাড়ির সব কাজ করে। সে অন্যের ঠোট নাড়ানাে দেখেই সব কথা বুঝে নিতে পারে। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে সে তার মনের মতাে জগৎ তৈরি করে নিয়েছে।

ফজলুরের এবং মিনুর পথচলার মাঝে পার্থক্য থাকলেও উদ্দীপক এবং ‘মিনু’ গল্পের মূলভাব এক। কারণ তারা নিজ নিজ জায়গায় নিজেদের মতাে করে সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। সংগ্রামের পথটা আলাদা হলেও তারা নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী নিজেদেরকে গােছানাের চেষ্টা করেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক এবং গল্পের মূল বিষয় এক। কারণ দুটি জায়গাতেই প্রতিবন্ধীদের জীবনসংগ্রাম ফুটে উঠেছে।

 

প্রশ্ন ৫।

“মৌমাছি, মৌমাছি

কোথা যাও নাচি নাচি

দাঁড়াও না একবার ভাই।

ওই ফুল ফোটে বনে

যাই মধু আহরণে

দাঁড়াবার সময় তাে নাই।”

[তথ্যসূত্র : কাজের লােক নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য]

ক. মিনু কাদের ওপর হাতুড়ি চালিয়ে তৃপ্ত হয়?

খ. শানু’ শব্দটি দ্বারা কী বােঝানাে হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের মৌমাছির মাঝে মিনু’ গল্পের মিনু চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “মিনু’ গল্পের মিনু এবং উদ্দীপকের মৌমাছি উভয়েই অত্যন্ত পরিশ্রমী হলেও পরিশ্রম করার ক্ষেত্রে দুইয়ের মাঝে ভিন্নতা রয়েছে।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

৫নং প্রশ্নের উত্তর

ক। মিনু তার শত্ৰু কয়লাগুলাের ওপর হাতুড়ি চালিয়ে তৃপ্ত হয়।

খ। শানু’ শব্দটি দ্বারা কয়লা ভাঙার পাথরকে বােঝানাে হয়েছে।

মিনু প্রতিদিন কাজ করার জন্য ভাের ৪টায় ঘুম থেকে ওঠে। সে দিনের প্রথম কাজ হিসেবে চুলা ধরানাের জ্বালানি কয়লা ভাঙার কাজ শুরু করে। কয়লাগুলােকে সে তার শত্রু মনে করে পাথরের উপর রেখে প্রচণ্ড আঘাতে তাঁ ভাঙতে থাকে। এ পাথরটি শানের মতাে শক্ত এজন্য এটিকেই মিনু নাম দেয় শানু।

গ. উদ্দীপকের মৌমাছির মাঝে ‘মিনু’ গল্পের মিনু চরিত্রের পরিশ্রমের দিকটি ফুটে উঠেছে।

নিজের কাজ নিজে করার মাঝে অনাবিল আনন্দ আছে। এতে অসম্মানিত হওয়ার কিছু নেই। এভাবে কাজ করলে মানসিক প্রশান্তি আসে।

উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে পরিশ্রমী মৌমাছির কথা। তারা দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে মধু আহরণ করে। এতেই তারা বড় বেশি আনন্দিত হয়। মিনু’ গল্পের মিনু তার দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে দিনরাত অক্লান্তভাবে কাজ করে। এ কাজের মধ্যেই সে আনন্দ খুঁজে পেয়ে মিতালি পাতায় প্রকৃতির সাথে। মিনুর এই অক্লান্ত পরিশ্রমের দিকটিই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

ঘ। “মিনু’ গল্পের মিনু এবং উদ্দীপকের মৌমাছি উভয়েই অত্যন্ত পরিশ্রমী হলেও ‘ পরিশ্রম করার ক্ষেত্রে দুইয়ের মাঝে ভিন্নতা রয়েছে।”- মন্তব্যটি যৌক্তিক।

কঠিন সংগ্রামে যা কিছু অর্জিত হয় তার ফল হয় অনেক বেশি ভালাে লাগার ও আনন্দের। কেউ ভালাে লাগা থেকে পরিশ্রম করে দিন-রাত, আবার কাউকে বেঁচে থাকার তাগিদে পরিশ্রম করতে বাধ্য করা হয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত মৌমাছি ফুল থেকে মধু আহরণ করতে নিজেকে দিন-রাত ব্যস্ত রাখে। এভাবে মধু সংগ্রহ করার মাঝেই এরা জীবনের আনন্দ খুঁজে পায়। মিনু’ গল্পের মিনু অসহায় অবস্থায় আশ্রিত হয় তার দূরসম্পর্কের এক পিসিমার বাড়িতে। বেঁচে থাকার জন্য তাকে সারাদিন বাড়ির সব কাজ অক্লান্তভাবে করতে হয়।

উদ্দীপকের মৌমাছি মনের আনন্দে দিন-রাত পরিশ্রম করে। অন্যদিকে মিনু দিন-রাত পরিশ্রম করে গৃহকর্তা-কর্তার বকা-ঝকা থেকে বাচার জন্য। অতএব মন্তব্যটি যৌক্তিক।    

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button