গদ্য জ্ঞান

মিনু গল্পের জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

মিনু গল্পের ছোট প্রশ্ন  

প্রশ্ন ১। মিনু কখন ঘুম থেকে ওঠে?

উত্তর : মিনু ভাের চারটায় ঘুম থেকে ওঠে।

প্রশ্ন ২। “উনুন’ শব্দের অর্থ কী? 

উত্তর : উনুন’ শব্দের অর্থ চুলা।

প্রশ্ন ৩। মিনুর কয়লা ভাঙ্গা পাথরের নাম কী?

উত্তর : মিনুর কয়লা ডাক্তা পাথরের নাম শানু।

প্রশ্ন ৪। মিনু মিটসেফটার নাম কী রেখেছিল?

উত্তর : মিনু মিটসেফটার নাম রেখেছিল গপগপা।

প্রশ্ন ৫। মিনুর জগৎ কিসের জগৎ? 

উত্তর : মিনুর জগৎ চোখের জগৎ।

প্রশ্ন ৬। লেখক বনফুলের আসল নাম কী?

উত্তর : বলাইচাঁদ মুখােপাধ্যায়।

প্রশ্ন ৭। বনফুল কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর : বনফুল ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রশ্ন ৮। পূর্ব আকাশে দপ দপ করে কী জ্বলে?

উত্তর :শুকতারা।

প্রশ্ন ৯। “মিনু’ গল্পে কার আশেপাশে কালাে মেঘের টুকরাে?

উত্তর : শুকতারার আশেপাশে।

প্রশ্ন ১০। ‘মিনু’ গল্পের উনুনের নাম কী?

উত্তর : রাক্ষসী।

প্রশ্ন ১১৷ আগুনের লাল আভাকে মিনুর কাছে কী মনে হয়?

উত্তর : রাক্ষসীর তৃপ্তি।

প্রশ্ন ১২। ডেলিপ্যাসেঞ্জারি’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : প্রত্যহ যাতায়াতকারী !

প্রশ্ন ১৩। মরা বােলতাটাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কারা ভিড় করে?

উওম : শত শত পিপড়া।

প্রশ্ন ১৪। ‘মিনু’ গল্পে উল্লেখকৃত লােকে কাকে মহৎ লােক বলে?

উত্তর : লােকে যােগেন বসাককে মহৎ লােক বলে।

প্রশ্ন ১৫।  বােলতা দেখলে মিনু কী করে?

উত্তর : বােলতা দেখলে মিনু সাে করে গামছা ঘুরিয়ে মারে।

প্রশ্ন ১৬৷ বােলতা মেরে মিনু কী করে?

উত্তর : বােলতা মেরে মিনু পিঁপড়াদের খেতে দেয়।

প্রশ্ন ১৭৷ মিনুর ধারণা কবে তার বাবা আসবে?

উত্তর : যেদিন মরা ডালটায় হলদে পাখিটা বসবে।

প্রশ্ন ১৮। ‘মিনুর বাবা বিদেশ গেছে’- এ খবর কে মিনুকে দিয়েছিল?

উত্তর : মাসিমা মিনুকে দিয়েছিল।

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১। মিনু শুকতারাকে নিয়ে কী বিশ্বাস করে? 

উত্তর : মিনু শুকতারাকে নিজের সই মনে করে।

মিনু খুব ভােরে ঘুম থেকে ওঠে। সে যখন ওঠে তখন আকাশে শুকতারা দপ দপ করে জ্বলে। মিনুর বিশ্বাস শুকতারাও তার মতাে ভাের বেলায় কয়লা ভাঙতে উঠেছে। আকাশে থাকে এমন কোনাে পিসেমশাইয়ের জন্য গৃহস্থালি কাজ করে শুকতারা। শুকতারার আশেপাশের কালাে মেঘের টুকরােগুলােকে মিনু কয়লা মনে করে। মিনু শুকতারাকে নিজের সই মনে করে এবং শুকতারাও তারই মতাে কাজ করে এমনটা মিনু বিশ্বাস করে। শুধু বিশ্বাসই করে না, মনে মনে শুকতারার সাথে কথাও বলে।

প্রশ্ন ২। মিনুর সর্বাঙ্গ রােমাঞ্জিত হয়ে উঠল কেন?

উত্তর : সরু ডালে হলুদ পাখি বসতে দেখে মিনুর সর্বাঙ্গ রােমাক্রিত হয়ে উঠল।

মিনুদের ছাদ থেকে একটি বড় কাঁঠাল গাছ দেখা যায়। একদিন মিনু দেখে কাঁঠাল গাছের সরু ডালে একটা হলুদ পাখি বসে আছে। সেই সময় মিনুর প্রতিবেশী টুনুর বাবা বিদেশ থেকে আসে। মিনুর মাসি বলেছিল তার বাবাও বিদেশ থাকে। সে মনে করে এরপর যেদিন ঐ ডালে আবার হলুদ পাখি এসে বসবে তার বাবাও ফিরে আসবে। একদিন জ্বরের ঘােরে সে ছাদে ওঠে এবং দেখতে পায় ঐ সরু ডালটায় একটা হলুদ পাখি বসে আছে। তখন তার বাবা ফিরে আসবে ভেবে সর্বাঙ্গ রােমাণিত হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন ৩। ‘মিনু’ গল্পে মিনুর বন্ধুদের বর্ণনা দাও।

উত্তর : ঘরের জিনিসপত্র, পিপড়া ও শুকতারা মিনুর বস্তু।

মিনুর অন্যতম বন্ধু হলাে পিপড়ের দল। পিঁপড়েরা ছাড়া আরও অনেক বন্ধু আছে তার। রান্নাঘরের বাসনগুলাে সব তার বন্ধু। মিনু তাদের আলাদা আলাদা নাম রেখেছে। ঘটিটার নাম পুটি। ঘটিটা একদিন হাত থেকে পড়ে গিয়ে তুবড়ে গেলে মিনু খুব কেঁদেছিল। গ্লাস চারটের নাম হারু, বারু, তারু আর কারু। চারটে গ্লাসই এক রকম। কিন্তু মিনুর চোখে তাদের পার্থক্য ধরা পড়ে। এছাড়া তার সই হলাে শুকতারা। তার সাথেই সে প্রতি সকালে জেগে ওঠে।

প্রশ্ন ৪। শুকতারা দেখলে মিনুর মুখে কেন হাসি ফোটে?

উত্তর : মিনু শুকতারাকে নিজের সই মনে করে বলে তাকে দেখলে তার মুখে হাসি ফোটে।

মিনু খুব ভােরে ঘুম থেকে ওঠে। তখন আকাশে শুকতারা থাকে। প্রতিদিন শুকতারাকে দেখে মিনু ভাবে শুকতারাও তার মতাে রােজ ভােরে উঠে কয়লা ভেঙে উনুন ধরায়। শুকতারারও হয়তাে আকাশে কোনাে পিসেমশাই আছে। এজন্যই শুকতারা দেখলে মিনুর মুখে হাসি ফোটে।

প্রশ্ন ৫। মনে হলাে জ্বর হওয়াটাও বুঝি অপরাধ একটা।’- বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর : ‘মনে হলাে জ্বর হওয়াটাও বুঝি অপরাধ একটা।’- এর দ্বারা মিনুর মনের সংকোচ ফুটিয়ে তােলা হয়েছে।

জ্বর হলে সেবা আর পথ্যের প্রয়ােজন হয়, সারাদিন শুয়ে থাকতে হয়। কিন্তু পিসিমার সংসারে মিনু সেবা আর পথ্য— কিছুই পায় না; বরং লাঞ্ছনা পায়। জ্বর হয়েছে বললে সেবার বদলে সে গঞ্জনাই বেশি পাবে। এজন্য তার মনে হয় যে, জ্বর হওয়াও এক প্রকারের অপরাধ।

প্রশ্ন ৬। মিনু ছাদ থেকে ছুটে বাইরে বেরিয়ে গেল কেন?

উত্তর : মিনুর ছাদ থেকে ছুটে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ হলােসে ডেবেছে নিশ্চয় তার বাবা বিদেশ থেকে ফিরে এসেছে।

জন্মের আগেই মিনুর বাবা মারা যান। কিন্তু মিনুর মাসি একদিন তাকে বলেছিল তার বাবা বিদেশে গেছে। তাই সে সেই অপেক্ষায় থাকে। ছাদের পাশে কাঁঠাল গাছের মরা ডালটায় যেদিন হলদে পাখি এসে বসেছিল সেদিন পাশের বাড়ির টুনুর বাবা বিদেশ থেকে এসেছিল। এটা দেখে মিনুর মনে বিশ্বাস জাগল যে, আবার যেদিন হলদে পাখিটি কাঠাল গাছে বসবে সেদিন অবশ্যই তার বাবা ফিরে আসবে। এ কারণে একদিন ছাদে উঠে সে হলদে পাখি দেখতে পেয়ে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে গেল বাবাকে দেখার আশায়।

প্রশ্ন ৭। “মহৎ হয়ে সুবিধাই হয়েছে যােগেন বসাকের’-ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : মহৎ হয়ে সুবিধাই হয়েছে যােগেন বসাকের’- উক্তিটি দ্বারা সুবিধাভােগী যােগেন বসাকের মুখােশ উন্মােচন করা হয়েছে।

যােগেন বসাক মিনুর পিসে মশাই। মিনু মাকে হারানাের পর এ বাড়িতে চলে আসে। লােকে মনে করে, যােগেন বসাক মিনুকে আশ্রয় দিয়ে মহৎ কাজ করেছে। কিন্তু যােগেন বসাক মহৎ উদ্দেশ্যে মিনুকে আশ্রয় দেয়নি। উদয়াস্ত খাটানাের জন্যই মূলত আশ্রয় দিয়েছে। আলােচ্য উক্তির মাধ্যমে এটাই প্রকাশ পেয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button