পদ্য সৃজনশীল

মানুষ জাতি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১।

তবে তুমি বুঝি বাঙালি জাতির বীজমন্ত্রটি শােন নাইসবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।’

একসাথে আছি, একসাথে বাচি, আজও একসাথে থাকবই

সব বিভেদের রেখা মুছে দিয়ে সাম্যের ছবি আঁকবই।

[তথ্যসূত্র :পরিচয়- সৈয়দ শামসুল হক]

ক. সবাই সমানভাবে কী বুঝি?

খ. একই রবি শশী মােদের সাথি- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে মানুষ জাতি’ কবিতার ফুটে ওঠা দিকটি ব্যাখ্যা কর।

ঘ. সবার উপরে মানুষ সত্য’ উক্তিটির যৌক্তিকতা উদ্দীপক ও মানুষ জাতি’ কবিতার আলােকে বিশ্লেষণ কর।

১নং প্রশ্নের উত্তর

ক। শীতাতপ, ক্ষুধা, তৃষ্ণার জ্বালা সবাই সমানভাবে বুঝি।

খ। পৃথিবীতে সব মানুষের বাস। তাই চাঁদ, সূর্য, আলাে, বাতাসও সব মানুষ একইভাবে পায়। তাই প্রশ্নোত উক্তিটি করা হয়েছে।

সব মানুষ একই পৃথিবীতে একই চাদ-সূর্যের আলাে পেয়ে থাকে। তাহলে কেন মানুষে মানুষে এত ভেদাভেদ, বৈষম্য, হানাহানি। সব মানুষ একই সঙ্গে এক পৃথিবীর মাঝে থাকলে অবশ্যই তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যবােধ বিদ্যমান থাকা উচিত। মানুষের সঙ্গে মানুষের যেন কোনাে পার্থক্য না থাকে সে কারণে কবিতায় এমন কথা বলা হয়েছে।

গ  উদ্দীপকে মানুষ জাতি’ কবিতার অসাম্প্রদায়িক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ চেতনার দিকটি ফুটে উঠেছে।

মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলাে সে মানুষ। কিন্তু কিছু মানুষ একে অন্যের সঙ্গে ভেদাভেদ করে। এই ভেদাভেদ মানুষকে অনেক দূরে ঠেলে দেয়।

‘মানুষ জাতি’ কবিতায় মানুষের মধ্যকার কৃত্রিম ভেদাভেদ দূরে রাখার কথা বলা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়ের মিথ্যা পার্থক্য করে মানুষ। আসলে পৃথিবীতে সব মানুষের একটাই পরিচয় হওয়া উচিত, আর তা হলাে মানুষ। উদ্দীপকের কবিতাংশেও এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। কবি বলেছেন মানুষে মানুষে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও অসাম্প্রদায়িকতা বাঙালি জাতির বীজমন্ত্র। কারণ তারা জানে মানুষের স্থান সবকিছুর উপরে। তাই তারা মানুষে মানুষে ভেদাভেদ রাখে না। তাই বলা যে, উদ্দীপকের মানুষের মানুষে ভেদাভেদ না করার অসাম্প্রদায়িক চেতনাটি আলােচ্য কবিতায় ফুটে উঠেছে।

ঘ। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’ উক্তিটি উদ্দীপক ও ‘মানুষ জাতি’ কবিতার আলােকে যৌক্তিক।

সামাজিক জীব হিসেবে সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করার আনন্দ তখনই আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে যখন মানুষের মধ্যে জাতিভেদ থাকে। কারণ ভেদাভেদ মানুষকে দূর ঠেলে দেয় আর সম্প্রীতি মানুষকে আপন করে।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাঙালি জাতির বীজমন্ত্র হলাে সবার উপরে মানুষ সত্য’। এই সত্যে বিশ্বাসী মানুষেরা একসঙ্গে থাকেন, একসঙ্গে বাঁচেন। তাদের মধ্যে বিভেদ নেই। সব মানুষের পরিচয় তারা সবাই মানুষ। এখানে ভেদাভেদের কোনাে স্থান নেই।

অনুরূপভাবে মানুষ জাতি’ কবিতায়ও বলা হয়েছে সব মানুষ পৃথিবীতে একইভাবে একই সূর্য ও চাঁদের আলােয় লালিত হয়। তাই তাদের মধ্যে কোনাে ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। মানুষের আসল পরিচয় হচ্ছে সে মানুষ।

উদ্দীপকে ও আলােচ্য কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে মানুষের মহত্ত্ব, মানুষের জয়গান। উভয় জায়গায় মানুষ যে সবার উপরে এ বিষয়টিই তুলে ধরা হয়েছে। তাই বলা যায় যে, সবার উপরে মানুষ সত্য উক্তিটি উদ্দীপক ও আলােচ্য কবিতার আলােকে যৌক্তিক। 

 

প্রশ্ন ২।

“মানুষ হইয়া মানুষকে কুকুর-বিড়ালের মতাে এত ঘৃণা করা মনুষ্যত্বের ও আত্মার অবমাননা করা নয় কি? আত্মাকে ঘৃণা করা । আর পরমাত্মাকে ঘৃণা করা একই কথা। সেদিন নারায়ণের পূজারী বলিয়াছিলেন, “ভাই, তােমার সে-পরম দিশারী তাে হিন্দুও নয়, মুসলমানও নয়, সে যে মানুষ!” কী সুন্দর বুকভরা বাণী! এ সে নিখিল কণ্ঠের সত্য বাণীর মূর্ত প্রতিধ্বনি! যাহার অন্তর হইতে এই উদ্বোধনীবাণী নির্গত হইয়া বিশ্বের পিষ্ট ঘৃণাহত ব্যথিতদের রক্তে রক্তে পরম শান্তির সুধা-ধারা ছড়াইয়া দেয়, তিনি মহা-ঋষি; তাহার চরণে কোটি কোটি নমস্কার।” [তথ্যসূত্র : ঘঁত্মার্গ-কাজী নজরুল ইসলাম]

ক. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

খ. ‘ভিতরে সবারই সমান রাঙা।’- চরণটি দ্বারা কী বােঝানাে হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে মানুষ জাতি’ কবিতার কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মানুষের প্রকৃত পরিচয়ের দিকটিই উদ্দীপক ও ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে।”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

খ। ভিতরে সবারই সমান রাঙা। চরণটি দ্বারা বােঝানাে হয়েছে যে, পৃথিবীর সব মানুষের শরীরের ভেতরে এক রং, তথা এক রঙের রক্ত প্রবাহিত।

আমরা বাইরের রং দেখে সুন্দর আর অসুন্দরের পার্থক্য করি। কিন্তু আমাদের সবার রক্ত সমান রাঙা। এতে কোনাে তারতম্য নেই। মূলত এর দ্বারা মানুষের বর্ণবৈষম্য দূর করার কথা বলা হয়েছে।

গ। উদ্দীপকের সঙ্গে মানুষ জাতি’ কবিতার সবকিছুর উর্ধ্বে মানুষ পরিচয়ের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।

সৃষ্টির, সর্বশ্রেষ্ঠ জীব হলাে মানুষ। এ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই সমান। ধর্ম, বর্ণ, গােত্র সবকিছুর উর্ধ্বে মানুষের প্রকৃত পরিচয় হলাে সে মানুষ। অর্থনৈতিক অবস্থা, ধর্ম, গােত্রভেদে মানুষের যে পরিচয় তা মিথ্যা।

উদ্দীপকে ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে আলাদা করে না দেখে মানুষকে মানুষের পরিচয়ে দেখার আহ্বান রয়েছে। 

‘মানুষ জাতি’ কবিতায় সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গােত্র পরিচয়ের উর্ধ্বে মানুষের মানুষ’ পরিচয়কেই তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের বাহ্যিক গড়ন, শরীরের বাইরের আবরণ এবং ধর্ম-জাত দিয়ে বিচার করলে মানুষের প্রকৃত পরিচয় আড়ালে থেকে যায়। এজন্য কবি পৃথিবীর সব মানুষকে অভিন্ন এক জাতি হিসেবে পরিচিতি দিয়েছেন। আর এদিক থেকেই, উদ্দীপকের সঙ্গে মানুষ জাতি’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ। “মানুষের প্রকৃত পরিচয়ের দিকটিই উদ্দীপক ও মানুষ জাতি’ কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

সর্বশ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে সৃষ্টিকর্তা মানুষ সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেক মানুষ একই পৃথিবীর আলাে-বাতাসে লালিত-পালিত হচ্ছে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দুঃখ-সুখের অনুভূতি সবারই আছে। সবার শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে যে রক্ত তার রং লাল। কিন্তু তা সত্ত্বেও পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষের পরিচয় সমান নয়। ধর্ম-বর্ণ-গােত্র এবং অর্থনৈতিক অবস্থার মানদণ্ডে মানুষে মানুষে বিভেদ বিরাজমান।

‘মানুষ জাতি’ কবিতায় দেশে দেশে, ধর্মে ও বর্ণের পার্থক্য সৃষ্টি করে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ তাকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করা হয়েছে। কবির মতে, আমাদের এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি। কিন্তু মানুষ আজ জাতিভেদ, গােত্রভেদ, বর্ণভেদ, বংশকৌলীন্য ইত্যাদি কৃত্রিম পরিচয়ে নিজেদের পরিচয়কে সংকীর্ণ করেছে। উদ্দীপকের লেখকের প্রত্যাশায়ও সব মানুষই সমান বলে বিবেচিত হয়েছে।

উদ্দীপকে মানুষের পরিচয়টিই বড় পরিচয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মানুষ জাতি’ কবিতায় কবি সব ভেদাভেদ ভুলে পৃথিবীর সব মানুষকে সমান বলে পরিচিতি দিয়েছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, মানুষের প্রকৃত পরিচয়ের দিকটিই উদ্দীপক ও ‘মানুষ জাতি কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে। তাই প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

 

প্রশ্ন ৩।

লেখা নেই রক্তে ধর্ম জাতি

গােত্র বর্ণ ভেদ;

তবু কেন এত চলে হানাহানি

মানবতা বিচ্ছেদ?

উদার আকাশ, আলাে ও প্রকৃতি

ফুসফুস জুড়ে বায়ু

টিমানব ধর্ম দান করে সবে

শাশ্বত পরমায়ু।

ক. কী খোজার মাধ্যমে আমরা বাসর বাধি?

খ. বাহিরের ছােপ আঁচড়ে যে লােপ।’- লাইনটি ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকটি মানুষ জাতি’ কবিতার সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. ‘কালাে আর ধলাে বাহিরে কেবল; ভিতর সবারই সমান রাঙা।’- উদ্দীপক ও কবিতার আলােকে ব্যাখ্যা কর।

৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক। দোসর খােজার মাধ্যমে আমরা বাসর বাঁধি।

খ। বাহিরের ছােণ আঁচড়ে যে লােপ।’- লাইনটি দ্বারা আমাদের রক্তের রংকে নির্দেশ করা হয়েছে।

আমাদের পৃথিবীতে বর্ণবৈষম্য বিরাজ করছে। কালাে আর সাদা জাত নিয়ে পৃথিবীব্যাপী বিবাদ চলছে। কিন্তু কালাে হােক আর সাদা হােক, শরীরে আঁচড় লাগলে একই রঙের দেখা পাওয়া যায় । লাইনটি আমাদেরকে সাম্যের শিক্ষা দেয়।

গ। উদ্দীপকটি মানুষ জাতি’ কবিতার সাথে মানবতার বাণীর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

দেশে দেশে ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য সৃষ্টি করে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে, তা কৃত্রিম। পৃথিবীজুড়ে ধর্ম-বর্ণ-গােত্র, পরিচয়ের উর্ধ্বে যে সমগ্র মানবসমাজ, সেটিই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।

উদ্দীপকের কবিতাংশে মানবতার সত্য বাণীকে কাব্যরূপ, দেওয়া হচ্ছে। এখানে পৃথিবীর সব মানুষকে অভিন্ন এক জাতি মনে করার ক্ষেত্রে ধর্ম-বর্ণ ও জাতিভেদের অবসান প্রত্যাশা করা হয়েছে। কারণ পৃথিবীজুড়ে যত জাতের, যত বর্ণের, যত ধর্মের যত মানুষ আছে তাদের শরীরে প্রবাহিত রক্তের রং একই রকম লাল। মানুষের বাহ্যিক গড়ন, শরীরের বাইরের আবরণ দিয়ে ধর্ম-জাত দিয়ে বিচার করলে মানুষের প্রকৃত পরিচয় আড়ালে থেকে যায়। তখন মানবতা লষ্মিত হয়। পৃথিবীর সমস্ত মানুষের একটাই পরিচয়- সে মানুষ। পৃথিবীতে কালাে-সাদার যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হানাহানি তা মানবতার লম্যান।

মানবধর্মের প্রতি মানুষের সচেতন মনােভাবই পারে জগতের সমস্ত হানাহানি দূর করে শান্তির সূচনা করতে। উদ্দীপকের এ ভাবধারার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে মানুষ জাতি’ কবিতায়।

ঘ। ‘কালাে আর ধলাে বাহিরে কেবল; ভিতর সবারই সমান রাঙা।’- চরণটি উদ্দীপক ও কবিতার আলােকে ব্যাখ্যা করা হলাে।

সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গােত্র পরিচয়ের উর্ধ্বে সমগ্র মানব সমাজ। মানুষের সাত্যিকার পরিচয়- সে মানুষ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ দিয়ে মানুষকে আলাদা করা হয়েছে। এ পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষেরই আবাসভূমি।

উদ্দীপকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষের প্রকৃত পরিচয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মানুষের ভিতরের দিক থেকে সব মানুষের ঐক্যের দিকটি নির্দেশ করা হয়েছে। তাদের শরীরে প্রবাহিত একই রকম লাল রক্ত। ফুসফুসে বাতাস গ্রহণের প্রক্রিয়া, একই আকাশ, জগতের একই নিয়ম-প্রকৃতির মধ্যে তাদের জীবন-সুখ-দুঃখ, আনন্দবেদনা অনুভব ইত্যাদি তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয় মানুষ জাতি’ কবিতায় প্রতিফলিত বিষয় অনুষঙ্গের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘মানুষ জাতি’ কবিতায় কবি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গােত্র নির্বিশেষে সব মানুষকে অভিন্ন এক জাতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কবি বিষয়টি বােঝাতে গিয়ে মানুষের শরীরে প্রবাহিত একই রকম লাল রক্তের কথা বলেছেন। এ বিষয়টি উদ্দীপকের কবিতাংশেও প্রতিফলিত হয়েছে। মানুষ জাতি’ কবিতায় কবি যে মানবধর্মের কথা বলেছেন তা উদ্দীপকেও উপস্থাপিত হয়েছে। এভাবে আলােচ্য উদ্দীপকের কবিতাংশে মানবধর্মের শাশ্বত দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।

 

প্রশ্ন ৪।

আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন জর্জিয়ার লাল পাহাড়ে সাবেক দাস আর সাবেক দাসমালিকের সন্তানেরা ভ্রাতৃত্বের এক টেবিলে বসবে। আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন মরুময় মিসিসিপি রাজ্য, অবিচার আর নিপীড়নের উত্তাপে দম বন্ধ করা মিসিসিপি হয়ে উঠবে মুক্তি আর সুবিচারের মরূদ্যান। আমি স্বপ্ন দেখি আমার চার সন্তান একদিন এমন এক জাতির মধ্যে বাস করবে, যেখানে তাদের চামড়ার রং দিয়ে নয়, তাদের চরিত্রের গুণ দিয়ে তারা গ্রহণযােগ্যতা পাবে।

[তথ্যসূত্র : আই হ্যাভ এ ড্রিম- মার্টিন লুথার]

ক. আমাদের সবার সাথি কে?

খ. কৃত্রিম ভেদ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের বক্তব্যে মানুষ জাতি’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “বৈষম্যহীন মানবসমাজই উদ্দীপক এবং মানুষ জাতি কবিতায় প্রত্যাশিত।” – মূল্যায়ন কর।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক। একই রবি শশী আমাদের সবার সাথি।

খ। ‘কৃত্রিম ভেদ’ বলতে কবি আমাদের সমাজে মানুষে মানুষে বিদ্যমান বৈষম্যকে বুঝিয়েছেন।

বাইরের শারীরিক বৈশিষ্ট্য যাই হােক না কেন, সব মানুষের ভেতরের রং এক। সবার শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে একই রঙের রক্ত। কিন্তু এই পরিচয় ভুলে মানুষ আজ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ ইত্যাদির ভিত্তিতে নিজ নিজ পরিচয় নির্ধারণ করেছে। যার ফলে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়েছে। কবি একে কৃত্রিম ভেদ বলেছেন।

গ। উদ্দীপকের বক্তব্যে মানুষ জাতি’ কবিতায় যে বিভেদের কথা আছে তা ফুটে উঠেছে।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষের এই পৃথিবীতে আগমন। অনুভব, অনুভূতি, অভ্যন্তরীণ গঠনে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ সমান। তবে এ মানুষই নানা কৃত্রিম পরিচয়কে আশ্রয় করে নিজেদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করেছে।

‘মানুষ জাতি’ কবিতায় মানুষ যে আজ কৃত্রিম পরিচয়ে বিভাজিত সেকথা বলা হয়েছে। কবি বলছেন, একই ধরণির স্নেহচ্ছায়ায়, একই চন্দ্র-সূর্যের আলােয় লালিত সব মানুষ। সবার শরীরে যে রক্ত প্রবাহিত, তার রং লাল। এমনকি ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দুঃখ-ব্যথার অনুভূতি সবার সমান হলেও মানুষ আজ ধর্ম, বংশ, জাতি এমনকি গাত্রবর্ণের পরিচয়ে নিজেদের মধ্যে তুলে দিয়েছে বিভেদের দেয়াল। উদ্দীপকে মার্টিন লুথার কিংয়ের বক্তব্যে সমাজের এই ভেদাভেদের চিত্রই ফুটে উঠেছে। বর্ণবাদ যে সমাজে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সেই সমাজের নির্মমতাই আলােচ্য অংশে বর্ণিত হয়েছে।

ঘ। “বৈষম্যহীন মানবসমাজই উদ্দীপক এবং মানুষ জাতি কবিতায় প্রত্যাশিত।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রতিটি মানুষ সমাজে সমান মর্যাদার প্রত্যাশী। কিন্তু প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় মানুষের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে কৃত্রিম পরিচয়ের কাছে। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গােত্রে বিভক্ত হয়ে মানুষ অনাকাক্ষিত এই বিভেদকে বাড়িয়ে তুলেছে।

‘মানুষ জাতি’ কবিতায় কবি প্রত্যাশা করেছেন সব বিভেদের প্রাচীর একদিন ভেঙে যাবে। তাই কবি সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে স্থাপন করেছেন মানুষকে। উদ্দীপকেও এই বৈষম্যহীন মানবসমাজের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে এমন এক সমাজের প্রত্যাশা করা হয়েছে, যে সমাজে গায়ের বর্ণের ভিত্তিতে মানবমর্যাদা নির্ধারিত হবে না। সেই সমাজে উচ্চারিত হবে মুক্তি আর সুবিচারের কথা।

উদ্দীপক এবং মানুষ জাতি’ কবিতায় এমন একটি সমাজের প্রত্যাশা করা হয়েছে যে সমাজে মানুষে মানুষে কোনাে বিভেদ থাকবে। প্রতিটি মানুষই সমান মর্যাদায় বিবেচিত হবে। আর এ কারণেই বলা যায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

 

প্রশ্ন ৫।

‘কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়,

তাইতে কি জাত ভিন্ন বলায়,

যাওয়া কিংবা আসার বেলায়

জেতের চিহ্ন রয় কার রে’ 

[তথ্যসূত্র : মানবধর্ম- লালন শাহ]

ক. কোনটি ধুলায় লুটায়?

খ. জলে ডুবি, বাচি পাইলে ডাঙা’- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকটি মানুষ জাতি’ কবিতার কোন দিকটির প্রতিনিধিত্ব করছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দীপকটির ভাবার্থ এবং মানুষ জাতি’ কবিতার ভাবার্থের মিল থাকলেও সম্পূর্ণ ভাবের ধারক নয়।” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

৫নং প্রশ্নের উত্তর

ক। কৃত্রিম ভেদ ধুলায় লুটায়।

খ। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে জীবন সংগ্রাম করে সংকট থেকে নতুন জীবন লাভ করার কথা বলা হয়েছে।

আমরা চলার পথে জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হই। জীবনে চলার পথে নানা রকম বিপদে পড়ি। আবার সংকট কাটিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখি। বন্ধু খুঁজি, এক সঙ্গে বাস করি। তাই কবি বলতে চেয়েছেন আমরা বিপদে পড়ি আবার সমাধান পেলে বিপদ থেকে উদ্ধার হয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখি। প্রশ্নোত্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে এ কথাই প্রকাশ পেয়েছে।

গ  উদ্দীপকটি ‘মানুষ জাতি’ কবিতার জাতভেদের দিকটির প্রতিনিধিত্ব করেছে।

মানুষ সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। আর ভেদাভেদ মানুষের সৃষ্টি। প্রকৃত বিচারে মানুষের মাঝে কোনাে রকম ভেদাভেদ কাম্য হতে পারে না। মানুযের বড় পরিচয় সে মানুষ।

উদ্দীপকে জাতি-বর্ণভেদের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। সব মানুষই একই উৎস থেকে আগত, আবার একই দিকে ধাবিত । কিন্তু ধর্ম-বর্ণের বৈষম্য মানুষকে মানুষের বড় পরিচয় থেকে সংকীর্ণতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যা একজন প্রকৃত মানুষের কখনই কাম্য হতে পারে না।

‘মানুষ জাতি’ কবিতায়ও জাতি-বর্ণভেদের বিষয়টি উঠে এসেছে মানুষের কৃত্রিম পরিচয় যেমন, জাত-বর্ণ-সম্প্রদায় ইত্যাদি মানুষের পরিচয়কে সংকীর্ণ করছে। এ ধরনের কৃত্রিম পরিচয়েই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব অমর্যাদার ধুলায় লুটায়। সুতরাং উদ্দীপকটি মানুষ জাতি’ কবিতার জাতভেদের দিকটির প্রতিনিধিত্ব করেছে।

ঘ। “উদ্দীপকটির ভাবার্থ এবং মানুষ জাতি’ কবিতার ভাবার্থের মিল থাকলেও সম্পূর্ণ ভাবের ধারক নয়।”- মন্তব্যটি যথাযথ।

সব মানুষের সুখ-দুঃখ, ক্ষুধা-তৃষ্ণার অনুভূতি একই ধরনের, রক্তের রংও এক। এতে পার্থক্য না থাকলেও মানুষ কৃত্রিম পরিচয় নিজেদের মধ্যে তৈরি করে পার্থক্য সৃষ্টি করেছে।

উদ্দীপকে মানুষের কৃত্রিম পরিচয় তথা জাতভেদের বিষয়টি বিবৃত হয়েছে। মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে তখন জাতের চিহ্ন কারও গায়ে লেখা থাকে না। মানুষ জাতি’ কবিতায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক মানুষ। পৃথিবীর আলাে-বাতাসে লালিত হচ্ছে। মানুষের অনুভূতি ও রক্তের রং একই ধরনের। কিন্তু জাতিভেদ মানুষের মাঝে সংকীর্ণতা সৃষ্টি করে চলেছে।

উদ্দীপকে শুধু জাতভেদের বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্টতা পাওয়া যায়। কিন্তু মানুষ জাতি’ কবিতায় জাতভেদের পাশাপাশি মানুষের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও পাওয়া যায়। সেখানে সবাই একই পৃথিবীর সন্তান; সবাই ক্ষুধা-তৃষ্ণার জ্বালা সমানভাবে অনুভব করে ইত্যাদি বিষয় প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।    

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button