পদ্য মূলভাব

মানুষ জাতি কবিতার মূলভাব ও ব্যাখা

পাঠের উদ্দেশ্য

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতা ও সমমর্যাদার মনােভাব সৃষ্টি।

পাঠ পরিচিতি বস্তুসংক্ষেপ

দেশে দেশে, ধর্মে ও বর্ণের পার্থক্য সৃষ্টি করে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে, কবি মানুষকে তার চেয়ে উপরে আসন দিয়েছেন। আমাদের এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি। এই ধরণির স্নেহচ্ছায়ায় এবং একই সূর্য ও চাঁদের আলােতে লালিত ও প্রতিপালিত হচ্ছে সব মানুষ। শীতলতা ও উষ্ণতা, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অনুভূতি সব মানুষেরই সমান রয়েছে। বাইরের চেহারায় মানুষের মধ্যে সাদাকালাের ব্যবধান থাকলেও সব মানুষের ভেতরের রং এক ও অভিন্ন। সবারই শরীরে প্রবাহিত একই লাল রক্ত।

মানুষ আজ জাতিভেদ, গােত্রভেদ, বর্ণভেদ ও বংশকৌলীন্য ইত্যাদি কৃত্রিম পরিচয়ে নিজেদের পরিচয়কে সংকীর্ণ ও গণ্ডিবদ্ধ করেছে। কিন্তু গােটা দুনিয়ার সঙ্গে মানুযের যে জন্মসম্পর্ক, সেই বিচাত্রে মানুষের আসল পরিচয় হচ্ছে সে মানুষ এবং তাদের মধ্যে কোনাে ভেদাভেদ থাকতে পারে। সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গােত্র-পরিচয়ের উর্ধ্বে যে সমগ্র মানবসমাজ, কবি এই কবিতায় মানুষের সেই পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন। পৃথিবীর সব মানুষকে নিয়েই গড়ে উঠেছে মানুষ জাতি।

 

১। মানুষে মানুষে কী ধরনের ভেদাভেদ তােমার চোখে পড়েছে? তােমার দেখা মানুষজনের আলােকে উক্ত ভেদাভেদের বর্ণনা দাও এবং এই ভেদাভেদ কীভাবে কমিয়ে আনা যায় সে ব্যাপারে তােমার মতামত উপস্থাপন কর।

উত্তর : মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সমস্ত মানুষ এক জাতি হিসেবে চিহ্নিত। কারণ তাদের বাইরের রং যা-ই থাকুক, ভিতরের রং সবারই এক। অর্থাৎ সবার শরীরের রক্তই লাল। এ জন্যই কবি বলেছেনকালাে আর ধলাে বাহিরে কেবল ভিতরে সবারই সমান রাঙা’। মানুষে মানুষে যে ধরনের ভেদাভেদ আমার চোখে পড়েছে তা নিচে দেওয়া হলাে :

১. জাতিভেদ → হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান।

২. বর্ণের ভেদ কালাে, সাদা।

৩. বিত্তের ভেদ — ধনী, দরিদ্র।

৪. মর্যাদার ভেদ → উঁচু বংশ, নিচু বংশ।

৫. আভিজাত্যের ভেদ → পােশাক, আবাসন, চলাফেরায় ব্যবহৃত যানবাহন।

জাতিভেদ দেশে-দেশে যুদ্ধবিগ্রহের অন্যতম কারণ। বর্ণভেদ পশ্চিমা দেশগুলােতে ব্যাপক বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে। পৃথিবীর সব দেশেই ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে চিরন্তন ভেদ লক্ষ করা যায়। গরিব আরও গরিব হচ্ছে, ধনী হচ্ছে আরও ধনী। অশান্তি দেখা দিচ্ছে রাষ্ট্রে, সমাজে, পরিবারে। যার ফলে সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজেই মানুষের মধ্যকার সব বিভেদের অবসান একান্ত জরুরি। কিন্তু মানুষে মানুষে এই ভেদাভেদ মানবতা দিয়ে কমিয়ে আনা যায়। মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব জেগে উঠলে মানুষে মানুষে পার্থক্য ঘুচে যাবে। মানবতাবােধ জাগ্রত হলে মানুষ জাতি, ধর্ম, বর্ণের দূরত্বকে অতিক্রম করে পরস্পর কাছাকাছি হবে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলবে। কীভাবে জাগ্রত হবে মানবতাবােধ। মানবতাবােধ জাগ্রত হবে প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে। ধর্মীয় কুসংস্কার তুলে দিয়ে, সাম্যবাদের বাণী প্রচার করে, মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে, মানুষের বাক স্বাধীনতার মূল্য ও মর্যাদা দিয়ে মানুষে মানুষে বৈষম্য দূর করা যায়। আমি মনে করি, অতীতের চেয়ে বর্তমানে মানুষ অনেক বেশি আত্মসচেতন, বিজ্ঞানমনস্ক, কুসংস্কারমুক্ত; জাতি-ধর্ম-বর্ণভেদকে দূরে ঠেলে দিয়ে মানুষ এখন মানবতার পতাকা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ অভিযাত্রা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে অবশ্যই মানুষে মানুষে সমস্ত ভেদাভেদ দূর হবে, মানবতার পতাকা উড়বে সমস্ত পৃথিবীর বুকজুড়ে।    

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button