পদ্য জ্ঞান

মানুষ জাতি কবিতার জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর        

প্রশ্ন ১। মানুষ জাতি’ কবিতার মূল নাম কী ছিল?

উত্তর : মানুষ জাতি কবিতার মূল নাম ‘জাতির পাতি।

প্রশ্ন ২। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর : নিমতা গ্রামে।

প্রশ্ন ৩। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর : ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে।

প্রশ্ন ৪। ‘যুঝি’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : যুঝি’ শব্দের অর্থ- যুদ্ধ করি।

প্রশ্ন ৫। জনম-বেদি শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : জনম-বেদি শব্দের অর্থ-জন্মস্থান।

প্রশ্ন ৬। কোনটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি?

উত্তর : আমাদের এই পৃথিবী।

প্রশ্ন ৭। কত বছর বয়সে সত্যেন্দ্রনার্থ দত্ত মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর : চল্লিশ বছর বয়সে।

প্রশ্ন ৮। মানুষ জাতি কোথায় আছে?

উত্তর : মানুষ জাতি পৃথিবীজুড়ে আছে।

প্রশ্ন ৯। মানুষ জাতি কার স্তন্যে লালিত?

উত্তর : মানুষ জাতি একই পৃথিবীর স্তন্যে লালিত।

প্রশ্ন ১০। ছােপ অর্থ কী?

উত্তর : রঙের পোচ বা ছাপ।

প্রশ্ন ১১। আমাদের সবার ভেতরের রং কী?

উত্তর : আমাদের সবার ভেতরের রং হলাে এক ও অভিন্ন (লাল)।

প্রশ্ন ১২। বাইরের রং কিসের দ্বারা লােপহয়?

উত্তর : বাইরের রং আঁচড়ের দ্বারা লােপ হয়।

প্রশ্ন ১৩। কৃত্রিম ভেদ কোথায় ললাটে?

উত্তর : কৃত্রিম ভেদ ধুলায় ললাটে।

প্রশ্ন ১৪। বংশে বংশে কী নেই?

উত্তর : বংশে বংশে তফাত নেই।

প্রশ্ন ১৫।  আমাদের বুনিয়াদ কার সঙ্গে গাঁথা?

উত্তর : আমাদের বুনিয়াদ দুনিয়ার সঙ্গে গাঁথা।

Also,

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১। কৃত্রিম ভেদ ধুলায় ললাটে’- কীভাবে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : মানুষে মানুষে সৃষ্ট কৃত্রিম ভেদাভেদ নষ্ট হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গােত্রের মানুষ রয়েছে। তাদের এক জনের সাথে অন্য জনের পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু সবকিছুর পার্থক্য থাকার পরেও একটি বিষয়ে সবাই একই। আর তা হলাে মানুষের মানুষ পরিচয়। মানুষের ধর্মে-বর্ণে পার্থক্য থাকলেও প্রত্যেক মানুষের শরীরে বইছে একই রকমের রক্ত। মানুষের আসল পরিচয় হচ্ছে সে মানুষ। সমস্ত জাতি, বর্ণ, ধর্ম, গােত্রের উর্ধ্বে। এখানে এসেই মানুষে মানুষে যাবতীয় বৈষম্য ধুলােয় মিশে যায়। কারণ বাইরে থেকে আলাদা হলেও ভেতর থেকে সবাই এক।

প্রশ্ন ২। “একই পৃথিবীর স্তন্যে লালিত”- চরণটির অর্থ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : “একই পৃথিবীর স্তন্যে লালিত”- এ চরণটিতে শুন্যে’ দ্বারা বােঝানাে হয়েছে যে, পৃথিবী থেকে আমরা সবাই বেঁচে থাকার সমস্ত উপকরণ গ্রহণ করি।

বেঁচে থাকার জন্য পৃথিবী থেকে আমরা খাদ্য, আলাে-বাতাস গ্রহণ করি। পৃথিবীর সব মানুষ পৃথিবীরই উপকরণসমূহ গ্রহণ করে বেঁচে থাকার জন্য। পৃথিবীও মায়ের মতাে তার সমস্ত উপকরণ দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।

প্রশ্ন ৩। শীতাতপ, ক্ষুধা, তৃষ্ণার জ্বালা সবাই আমরা সমান বুঝি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : শীতাতপ, ক্ষুধা, তৃষ্ণার জ্বালা আমরা সবাই সমান বুঝি— এর কারণ হলাে আমাদের সবারই অনুভূতির সমান ক্ষমতা রয়েছে।

পৃথিবীর সব মানুষই পাঁচটা ইন্দ্রিয়ের অধিকারী। ব্যক্তি, জাতি বা দেশভেদে ইন্দ্রিয়ের পার্থক্য নেই। ক্ষুধার জ্বালা যেভাবে আমরা সবাই একইভাবে অনুধাবন করি— শীত, গরম ও তৃষ্ণার অনুভূতিও সবাই সেভাবেই অনুভব করি।

প্রশ্ন ৪। ‘কালাে আর ধললা বাহিরে কেবল, ভিতরে সবারই সমান রাঙা।’- বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর : প্রশ্নোত্ত চরণ দ্বারা বােঝানাে হয়েছে যে, পৃথিবীর সব মানুষের শরীরের বাহির আলাদা হলেও ভেতরে এক রঙের রক্ত প্রবাহিত।

আমাদের কারও শরীর কালাে, কারও শরীর সাদা। এই বিবেচনায় আমরা সুন্দর আর অসুন্দরের পার্থক্য করি। কিন্তু আমাদের সবার রক্ত সমান রাঙা। এতে কোনাে তারতম্য নেই। মূলত এর দ্বারা কবি মানুষের মন থেকে বর্ণবৈষম্যকে দূর করতে চেয়েছেন।

প্রশ্ন ৫। “একই রবি শশী মােদের সাথি।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : আলােচ্য চরণ দ্বারা বােঝানাে হয়েছে যে, পৃথিবীর সব প্রাণীই একই চাদ ও একই সূর্যের আলাে গ্রহণ করে।

পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য আলাের প্রয়ােজন। আর বাচার প্রয়ােজনে আমরা একই চাঁদ-সূর্য থেকে আলাে গ্রহণ করি। বিশেষ ব্যক্তি বা বিশেষ জাতির জন্য পৃথিবীতে আলাের বিশেষ কোনাে উৎস নেই।

প্রশ্ন ৬। “বাচিবার তরে সমান যুঝি।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : আলােচ্য চরণটি দ্বারা বােঝানাে হয়েছে যে, পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য আমরা সবাই সমানভাবে যুদ্ধ করি।

পৃথিবীতে সবাই বেঁচে থাকতে চায়। আয়ুর সবটুকু ভােগ করে আরও বেশি বেঁচে থাকতে চায়। যদি মৃত্যু কখনাে হাতছানি দেয়, তবে বেঁচে থাকার জন্য আমরা সবাই সমান সংগ্রাম করি। আলােচ্য চরণ দ্বারা এটিই বােঝানাে হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button