গদ্য সৃজনশীল

নীল নদ আর পিরামিডের দেশ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর      

প্রশ্ন ১।

আমরা কয়েকজন বন্ধু গ্রীষ্মের ছুটিতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। উদ্দেশ্য, দুচোখ ভরে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভােগ করা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আবার সেখান থেকে কক্সবাজার গেলাম, সেখান থেকে সেন্ট মার্টিন, কী অপূর্ব দৃশ্য আর সৌন্দর্যের মাখামাখি। কোরাল পাথরের ছড়াছড়ি সেন্ট মার্টিনের এক বিশাল অহংকার। এছাড়াও আছে নীল পানির এক রাজপুরী। সেখানে কচ্ছপেরা অবাধে ঘুরে বেড়ায়, ডিম পাড়ে; কাকড়ারা দল বেঁধে আল্পনা আঁকে। সেন্ট মার্টিনে না গেলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি অদেখাই থেকে যেত।

ক. নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’- কার লেখা?

খ. উটের চোখগুলাে রাতের বেলা সবুজ দেখাচ্ছিল কেন?

গ. ভ্রমণকারীদের যাত্রাপথের সাথে লেখকের মিশর ভ্রমণের কী মিল খুঁজে পাওয়া যায়? বর্ণনা কর।

ঘ. সেন্ট মার্টিন না গেলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি অদেয়াই থেকে যেত’- এই বক্তব্যটি নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার আলােকে বিশ্লেষণ কর।

১নং প্রশ্নের উত্তর 

ক। নীল নদ আর পিরামিডের দেশ ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী।

খ। রাতের বেলা উটের চোখের উপর মােটরের হেডলাইট পড়ায় চোখগুলাে সবুজ দেখাচ্ছিল।

লেখক মিশর ভ্রমণকালে রাতের বেলায় মােটর করে মরুভূমির রাস্তা ধরে চলছিলেন। হঠাৎ সামনে দেখলেন জ্বলজ্বলে দুটি সবুজ আলাে। প্রথমে সেটাকে ভূতের চোখ ভাবলেও কাছে গিয়ে দেখতে পান তা ছিল উটের চোখ। কারণ উটের চোখের উপর মােটরের হেডলাইট পড়ায় চোখগুলাে সবুজ দেখাচ্ছিল।

গ। ভ্রমণকারীদের যাত্রাপথের সাথে নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার লেখকের মিশর ভ্রমণের প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। মানুষের মনের সমস্ত চাওয়া-পাওয়ার খােরাক জোগায় প্রকৃতি। তাই তাে প্রকৃতির রূপ দেখার জন্য মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়।

উদ্দীপকে বাংলাদেশের প্রকৃতির লীলাম্বর্গ সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক দৃশ্যের কথা বর্ণিত হয়েছে। ভ্রমণকারীরা যাত্রাপথের দুই পাশে অপরূপ সৌন্দর্যের মাখামাখি দেখতে পায়। এই যাত্রাপথের প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাথে নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কায়রাে ভ্রমণকালে লেখক যাত্রাপথের মরুভূমির দৃশ্য, শহরের পথের দৃশ্য বর্ণনা করেছেন, মরুভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। এর সাথেই উদ্দীপকের ভ্রমণকারীদের যাত্রাপথের মিল রয়েছে।

ঘ। “সেন্ট মার্টিন না গেলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি অদেখাই থেকে যেত।”- এই বক্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

আমাদের এই পৃথিবী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। বিভিন্ন দেশের প্রকৃতিতে  রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্যের ছোঁয়া। কোথাও রয়েছে সুবিশাল সাগর, কোথাও মরুভূমি, কোথাও পাহাড়, কোথাওবা নদীর অনাবিল সৌন্দর্য।

উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে বাংলাদেশের সমুদ্রকন্যা সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের বর্ণনা। স্বচ্ছ নীল সাগরজলে কোরাল পাথরের ছড়াছড়ি। 

“সেন্ট মার্টিন না গেলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি অদেখাই থেকে যেত”-ভ্রমণকারীদের এই মন্তব্যের সাথে নীলনদের সৌন্দর্যের সাদৃশ্য রয়েছে।

নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনায় লেখক মিশরের নীলনদের সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। নীলনদের উপর দিয়ে মাঝারি ধরনের মহাজনি নৌকার পাল তুলে পেটুক ছেলের মতাে পেট ফুলিয়ে চলা, নীলের স্বচ্ছ জলে মিশরের চাষাবাদ প্রভৃতি মনােমুগ্ধকর দৃশ্য বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনার সাথে উদ্দীপকের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। 

 

প্রশ্ন ২। 

স্বৰ্গ, শ্রেয়সী তার বন্ধুদের নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলাে। পদ্মা ও যমুনার রুপালি যােত পাড়ি দিয়ে তারা এক সময় ঢাকায় পৌছায়। সেখানে তারা প্রথমেই যায় লালবাগের দুর্গে। এ যেন ফেলে আসা মুঘল সাম্রাজ্যের একটুকরাে, রাজত্ব। মুঘল সম্রাটদের স্থাপত্য ঐশ্বর্য এখানে লুকিয়ে আছে। এখানকার দরবার হল, পরীবিবির মাজার ও শাহজাদা আজমের মসজিদ দেখে তারা ছবি তুলতে লাগলাে। তারা শেষ পর্যন্ত স্বীকার করলাে, এখানে আসার ফলেই তারা অতীত ইতিহাস ও সম্রাটদের হারিয়ে যেতে বসা বিশাল কীর্তির সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছে।

ক. নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনাটি লেখকের কোন গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে?

খ. এই নীলের জল দিয়ে এ দেশের চাষ হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে শীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার যে দিকের সাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের শ্রেয়সী ও তার বন্ধুদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য যেন সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘চাওয়া” মন্তব্যটি ‘নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার আলােকে বিশ্লেষণ কর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক। নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ লেখকের জলে ডাঙ্গায়’ গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে।

খ। এই নীলের জল দিয়ে এ দেশের চাষ হয়। কারণ নীল নদই মিশরের চাষাবাদের জন্য মিষ্টি পানির জোগান দেয়।

নীল নদ মিশরের তথা পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম নদ। এদেশের অববাহিকায় চাষাবাদ হয়। এজন্যই লেখক বলেছেন- এই নীলের জল বিস্তীর্ণ অঞলজুড়ে এ নদ প্রবাহিত। মরুময় মিশর দেশে নীলনদের দিয়ে এ দেশের চাষ হয়।

গ। উদ্দীপকটি নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার যে দিকের সাদৃশ্য রয়েছে তা হলাে- ইতিহাস-ঐতিহ্য ও দর্শনের।

তার কৌতূহল বা জানার বাসনা রয়েছে। সেই বাসনা থেকেই মানুষ ভ্রমণ মানুষের জ্ঞানভাণ্ডারকে পরিপূর্ণ করে। বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে জ্ঞানার্জন করে।

উদ্দীপকের শ্রেয়সী ও তার বন্ধুদের ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ছিল বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার। এজন্য তারা ঢাকার লালবাগ দুর্গে যায়। তারা মুঘল স্থাপত্যের ঐশ্বর্য, পরীবিবির মাজার, শাহজাদা আজমের মসজিদ ইত্যাদি দেখে। নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার লেখকও পুরনাে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার জন্য মিশরে যান। তিনি মিশরের অতীত ঐতিহ্য পিরামিড দেখে তার জ্ঞানভাণ্ডার পূর্ণ করেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, ইতিহাস-ঐতিহ্য দর্শনের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে আলােচ্য রচনার সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ। “উদ্দীপকের শ্রেয়সী ও তার বন্ধুদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য যেন সৈয়দ মুজতবা আলী চাওয়া”- মন্তব্যটি যথার্থ।

পৃথিবীতে অনেক কীর্তি রয়েছে যা থেকে আমরা অতীত ঐতিহ্য উচ্চমানের শৈল্পিক নিদর্শন ও নির্মাণশৈলীর পরিচয় পাওয়া যায়। অতীতের অনেক স্থাপনায সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারি। 

উদ্দীপকের শ্রেয়সী ও তার বন্ধুরা সবাই মিলে, রাজধানী ঢাকায় আসে। তারা ঢাকায় এসে লালবাগ দুর্গ পরিদর্শন করে। মুঘল ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে। তাদের ঢাকায় আসার মূল উদ্দেশ্যই ছিল ভ্রমণ ও অতীত ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা। সৈয়দ মুজতবা আলী তার নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনায় মিশর ভ্রমণের কথা তুলে ধরেছেন। বর্ণনা করেছেন মিশরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

আলােচ্য রচনার মধ্য দিয়ে লেখক মূলত চেয়েছেন মানুষকে ভ্রমণে আগ্রহী করে তুলতে ও বিভিন্ন দেশের ইতিহাস সংস্কৃতি সম্পর্কে জানাতে। উদ্দীপকের শ্রেয়সী ও তার বন্ধুরা ঢাকার লালবাগ দুর্গ ভ্রমণের মধ্য দিয়ে যেন লেখকের সেই চাওয়ায় পূরণ করেছে। তাই বলা যায় যে, মন্তব্যটি যথার্থ।

 

প্রশ্ন ৩।

নীরেন হাত-পা ধুইয়া ঠাণ্ডা হইয়া বসিল। … বুড়ির রান্না শেষ হইতে রাত দশটা বাজিল। … রাঙা আউশ চালের ভাত, পেঁপের ডালনা, সােনা-মুগের ডাল, উচ্ছেডাজ, আলুভাতে, ঘন আটানাে সরপড়া দুধ, দুটি পাকা কলা, একদলা আখের গুড়ের পাটালি। আদ্ভুত রান্না বুড়ির হাতের। … উচ্ছ্বসিত প্রশংসার সুরে বলিল- এমন রান্না কখনাে খাইনি দিদিমা। শুনতাম বটে বাংলাদেশের পাড়াগায়ের রান্নার কথা কিন্তু এ যে এমন চমৎকার তা ভাবিনি [তথ্যসূত্র : বংশলতিকার সন্ধানে- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]

ক. “নাইল” অর্থ কী?

খ. ‘সে এক অদ্ভুত দৃশ্য’- উক্তিটি লেখক কেন করেছেন?

গ. উদ্দীপকটি নীল নদ আর পিরামিডের দেশ ভ্রমণকাহিনির কোন বিষয়টির কথা মনে করিয়ে দেয়?

ঘ. যে খাবারগুলাের জন্য আলােচ্য রচনার লেখকের প্রাণ কাঁদছিল তা উদ্দীপকের নীরেনের জন্য বুড়ি বেঁধেছে – মন্তব্যটি বিচার কর।

৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক। চাদনি রাতের মরুভূমির দৃশ্য দেখে লেখক উক্তিটি করেছেন।

খ। লেখক সুয়েজ বন্দর ছেড়ে শহরের দিকে রওয়ানা করেছেন, বিশাল মরুভূমির মধ্য দিয়ে। তখন আকাশে চাঁদ উঠেছে। এই চাদের আলােয় মরুভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে লেখক মন্তব্য করেন সে এক অদ্ভুত দৃশ্য। সেই দৃশ্য বাংলাদেশের সবুজ শ্যামলিমার মধ্যে দেখা যায় না।

গ। উদ্দীপকটি নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ ভ্রমণকাহিনির রান্না ও খাবারের বিষয়টির কথা মনে করিয়ে দেয়।

ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন খাবারের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। প্রতিটি দেশের খাবারের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। যা থেকে মানুষের জীবন বৈচিত্র্য সম্পর্কেও জানা যায়।

উদ্দীপকে বাংলার রন্ধনশিল্প ও খাবারের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের এক গ্রামে বেড়াতে গেলে নীরেনকে খেতে দেওয়া হয় বৈচিত্র্যময় বাহারি সব খাবার। যেমন- আউশ চালের ভাত, পেঁপের ডালনা, সােনামুগের ডাল, উচ্ছেভাজি, আলুভাতে, ঘন দুধ, পাকা কলা ও আখের গুড়। নীরেনের কাছে অদ্ভুত সুন্দর লাগে এসব খাবার। নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ ভ্রমণকাহিনিতেও লেখক মিশরে বেড়াতে গিয়ে সেখানকার খাবারের কথা তুলে ধরেছেন। যেমন- মুরগি মুসল্লাম, শিক কাবাব, শামি কাবাব। আরও অনেক অজানা জিনিস। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি আলােচ্য রচনার রান্না ও খাবারের বিষয়টির কথা মনে করিয়ে দেয়। 

ঘ। যে খাবারগুলাের জন্য আলােচ্য রচনার লেখকের প্রাণ কাঁদছিল তা উদ্দীপকের নীরেনের জন্য বুড়ি বেঁধেছে- মন্তব্যটি যথার্থ।

ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ বিচিত্র বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। বিচিত্র এসব বিষয়ের মধ্যে থাকে কোনাে একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি। মানুষ জানতে পারে সেই দেশের খাদ্য ও খাদ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য।

নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনায় লেখক মিশরীয় খাদ্য সম্পর্কে আলােচনা করেছেন। ক্ষুধার্ত অবস্থায় লেখকরা নিকটতম রেস্তোরায় যান। সেখানে নানা রকম মিশরীয় খাবার খান তারা। অথচ লেখকের প্রাণ কেঁদেছিল আতপ চালের ভাত, উচ্ছেভাজা, সােনামুগের ডাল, পটোলভাজা ও মাছের ঝােলের মতাে দেশি খাবারের জন্য। এ খাবারগুলােই উদ্দীপকের নীরেনকে খেতে দেয় বুড়ি। বাংলাদেশের এই চালের ভাত, সােনামুগের ডাল, উচ্ছেভাজা, দুধ, কলা, গুড় খেয়ে পরিতৃপ্ত ও চমৎকৃত হয় উদ্দীপকের নীরেন।

উদ্দীপকের নীরেন বাংলাদেশের চালের ভাত, সােনামুগ ডাল, উচ্ছেভাজার মতাে সুস্বাদু যে খাবারগুলাের কথা বলেছে আলােচ্য রচনার লেখকের সেই খাবারগুলাের জন্যই প্রাণ কাঁদে। সুদূর বিদেশে বসে তিনি এই দেশি খাবারগুলােই যেন খেতে চেয়েছেন। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

 

প্রশ্ন ৪। 

কত দেশের কত রকমের লােক পণ্যবাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে চলেছে। কত ঢঙের টুপি, কত রঙের পাগড়ি, কত যুগের অস্ত্রগাদাবন্দুক থেকে আরম্ভ করে আধুনিকতম জর্মন মাউজার। দামেস্কের বিখ্যাত সুদর্শন তরবারি, সুপারি কাটার জাতির মতাে ‘জামধর মােগল ছবিতে দেখেছিলুম, বাস্তবে দেখলুম হুবহু সেই রকম গােলাপি সিষ্কের কোমরবন্ধে গোঁজা। কারাে হাতে কানজোখা পেতলে বাঁধানাে লাঠি, কারাে হাতে লম্বা ঝকঝকে বর্শা। উটের পিঠে পশমে রেশমে বােনা কত রঙের কার্পেট, কত আকারের সামােভার। বস্তা বস্তা পেস্তা বাদাম আখরােট কিসমিস আলুবুখারা চলেছে হিন্দুস্থানের বিরিয়ানি পােলাওয়ের জৌলুস বাড়াবার জন্য। আরও চলেছে, শুনতে পেলুম, কোমরবন্ধের নিচে, ইজেরের ভাজে, পুস্তিনের লাইনিংয়ের ভিতরে আফিং আর হাসিস না ককেনই, না আরও কিছু।

[তথ্যসূত্র : গন্তব্য কাবুল— সৈয়দ মুজতবা আলী]

ক. মিশর কোন নদীর তীরে গড়ে উঠেছে?

খ. “ঝিনুকের মতাে দাঁত আর কালাে চামড়ার কী অসীম সৌন্দর্য।”- লেখক কোন প্রসঙ্গে মন্তব্যটি করেছেন?

গ. উদ্দীপকটি নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার কোন বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ?

ঘ. উদ্দীপকটি নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক। মিশর নীলনদের তীরে গড়ে উঠেছে।

খ। নিগ্রোদের দৈহিক সৌন্দর্য বর্ণনায় লেখক প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন।

লেখক মিশর ভ্রমণকালে বিভিন্ন জাতি-গােষ্ঠীর মানুষ দেখতে পান। তাদের মধ্যে নিগ্রো ও সুদানি বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। নিগ্রোদের দৈহিক সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ভেড়ার ললামের মতাে কোঁকড়া চুল, লাল লাল পুরু দুখানা ঠোট, বোঁচা নাক, ঝিনুকের মতাে দাঁত আর কালাে চামড়ার কী অসীম সৌন্দর্য।

গ। উদ্দীপকটি নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার বিভিন্ন জাতির মানুষের জীবনাচরণ, অভ্যাস ও দৈহিক সৌন্দর্য বর্ণনার বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

আমাদের এ পৃথিবীতে নানা জাতির লােক বাস করে। কেউ কালাে, আবার কেউবা সাদা। কিন্তু সবাই আমরা মানুষ। এই রং কেবল তার বাইরের সৌন্দর্য, ভেতরে সবাই এক।

উদ্দীপকে কাবুলের পাঠানদের জীবনাচরণ এবং সেখানকার মানুষের কাজকর্ম, সাজগােজ, কাজের ধরন প্রভৃতি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনায়ও লেখক মিশরীয়, নিগ্রো, সুদানি প্রভৃতি জাতির কার্যক্রম ও জীবনধারার বর্ণনা করেছেন। আলােচ্য রচনার এই বিষয়টির সঙ্গেই উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ। “উদ্দীপকটি নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

ভ্রমণকাহিনি পড়লে বিভিন্ন দেশ, সেই দেশের অবস্থান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, লােকজন, ইতিহাস-ঐতিহ্য ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। আমাদের জ্ঞানের ভাণ্ডার পরিপূর্ণ করতে ভ্রমণ এবং ভ্রমণকাহিনি পড়া অতি জরুরি।

উদ্দীপকে আমরা কাবুলবাসীর জীবনধারা, সেখানকার লােকজন এবং বিভিন্ন ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারি। এ বিষয়টি নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার একটি বিষয় ধারণ করেছে। কেননা আলােচ্য রচনায় অন্যান্য বিষয়ও বর্ণিত হয়েছে।

নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনায় লেখক মিশর ভ্রমণকালে তার দেখা মরুভূমির সৌন্দর্য, নীল নদ, পিরামিড, সে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রাচীনকালের জীবনধারা, জনগণ প্রভৃতি বিষয়ের অনুপুঙ্খ বর্ণনা করেছে। উদ্দীপকে কাবুলবাসীর জীবনধারা, সেখানকার লােকজন ও ঐতিহ্য ছাড়া আলােচ্য রচনার অন্যান্য বিষয় অনুপস্থিত। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

 

প্রশ্ন ৫৷

আধুনিক কায়রাে শহরের নিকটবর্তী গীজে নামক স্থানে যে তিনটি অতিকায় পিরামিড বর্তমান, এ তিনজন সম্রাটই এগুলাের নির্মাতা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং প্রথম নির্মিত হয়েছে খুফুর পিরামিড। তেইশ লক্ষ অতিকায় চুনাপাথর দিয়ে এটি নির্মিত হয়েছে। প্রতিটি খণ্ডের ওজন আড়াই টনের কম নয়। ফারাওদের সম্পূর্ণ সমাধি কক্ষ গ্রানাইট পাথরে তৈরি। প্রায় এক লক্ষ লােক বিশ বছর পরিশ্রম করে এর নির্মাণকাজ সমাপ্ত করে। ভূমি হতে এ পিরামিডের চূড়ার উচ্চতা ৪৮১ ফুট, ভূমিতে অবস্থিত এক একটি দিক ৭৫৫ ফুট লম্বা। [তথ্যসূত্র : চারু ও কারুকলা : (মিশরীয় সভ্যতা)- ফজলুল হক মুন্টু।]

ক. ভূমধ্যসাগর থেকে কত মাইল পেরিয়ে মন্দমধুর ঠান্ডা হাওয়া আসছিল?

খ. সবাই নিকটতম রেস্তোরায় কেন হুড়মুড় করে ঢুকেছিল? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে নীল নদ আর পিরামিডের দেশ রচনার সাদৃশ্য কোথায়? আলােচনা কর।

ঘ. “উদ্দীপকের আলােচ্য দিকটিই নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার একমাত্র বিষয় নয়।”- মন্তব্যটি যাচাই কর।

৫নং প্রশ্নের উত্তর

ক। ভূমধ্যসাগর থেকে একশ মাইল পেরিয়ে মন্দমধুর ঠান্ডা হাওয়া আসছিল

খ। সবাই অনেক ক্ষুধার্ত থাকায় নিকটতম রেস্তোরায় হুড়মুড় করে ঢুকেছিল।

লেখক ও তার সঙ্গীরা একবার ভূপ্রকৃতির দৃশ্য বর্ণনার দিক দিয়ে মিশরে ঘুরতে যান। তারা কায়রাে শহরে পৌছে অনেক রেস্তোরা দেখতে পান। সেখানে রকমারি রান্না চলছিল আর ঘ্রাণে যেন সবাই মুগ্ধ। ক্ষুধার্ত থাকায় খাবারের ঘ্রাণ যেন তাদের ক্ষুধা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই তারা ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে নিকটতম একটি রেস্তোরায় হুড়মুড় করে ঢুকে পড়েন।

গ। উদ্দীপকের সঙ্গে নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার পিরামিডের সাদৃশ্য রয়েছে।

পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে পিরামিড এক উল্লেখযােগ্য স্থান অধিকার করে আছে। পৃথিবীর দর্শনীয় স্থানগুলাের মধ্যে মিশরের পিরামিড অন্যতম। এই নিদর্শনসমূহ অতীত ইতিহাসের কথা আমাদের মনে করিয়ে দেয়।

উদ্দীপকে পিরামিড নির্মাণের ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে। মিশরের কায়রাে শহরের গীজে নামক স্থানে তিনটি অতিকায় পিরামিড রয়েছে। এগুলাের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং প্রথম নির্মিত হয়েছে খুফুর পিরামিড। এগুলাে ছিল ফারাও সম্রাটদের সমাধিকক্ষ। নীল নদ আর পিরামিডের দেশ রচনায়ও লেখক পিরামিডের কথা উল্লেখ করেছেন, যা ছিল ফারাওদের বিশ্বাসের প্রতীক। এই পিরামিডের বর্ণনার দিক থেকেই উদ্দীপকের সঙ্গে নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ। “উদ্দীপকের আলােচ্য দিকটিই নীল নদ আর পিরামিডের দেশ রচনার একমাত্র বিষয় নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ তার জ্ঞানের পরিধিকে সমৃদ্ধ করতে পারে। ভ্রমণের মাধ্যমে কোনাে দেশ, সেদেশের প্রকৃতি, লােকজন, ইতিহাসঐতিহ্য সম্পর্কে জানা যায়। বইয়ে পড়া জ্ঞান মানুষ ভ্রমণে অর্জিত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আরও শানিত করতে পারে।

উদ্দীপকে নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার একটি মাত্র বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে। আর তা হলাে পিরামিডের বর্ণনা। এই পিরামিডগুলাে নির্মিত হয়েছিল মিশরের ফারাওদের সমাধিকক্ষ হিসেবে। অন্যদিকে নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনায় মিশরের পিরামিডের কথা ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় আলােচনা করা হয়েছে। এখানে মিশরের পিরামিডের বর্ণনার পাশাপাশি নীলনদের অবদান, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মরুভূমির সৌন্দর্য, বিভিন্ন জাতির মানুষ, কায়রাের রান্নাবান্না, লেখকের অনুভূতি প্রভৃতি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।

নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনায় লেখক মিশর ভ্রমণের চিত্র অঙ্কন করেছেন। আর উদ্দীপকে আলােচ্য রচনার মিশরের পিরামিডের কথা বর্ণিত হয়েছে মাত্র। এসব বিচারে বলা যায়, উদ্দীপকে আলােচ্য দিকটিই নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ রচনার একমাত্র বিষয় নয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button