গদ্য সৃজনশীল

তোলপাড় গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১।

রিকশার ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়ে আমিন সাহেব পায়ে ভীষণ ব্যথা পেলেন। ফারুক তাকে উঠিয়ে পরিচয় জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, আমি মুক্তিযােদ্ধা আমিন। ফারুক তাকে সালাম জানিয়ে কাছের বন্ধুদের ডেকে এনে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। মুক্তিযােদ্ধা আমিন সুস্থ হয়ে ফারুককে কিছু বখশিশ দিতে চাইলে ফারুক একজন মুক্তিযােদ্ধার সেবা করতে পারাকেই বড় বখশিশ বলে জানায়।

ক. সাবুর মায়ের নাম কী?

খ. আর এখন কিছু করতে না পারলে অসােয়াস্তি’- সাবুর এই মনােভাবের কারণ ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে ‘তােলপাড়’ গল্পের মিসেস রহমানের কোন ঘটনার মিল রয়েছে।

ঘ. তুমি কি মনে কর ফারুকের ভূমিকা, ‘তােলপাড়’ গল্পের সাবুর ভূমিকারই প্রতিচ্ছবি? তােমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

১নং প্রশ্নের উত্তর

ক। সাবুর মায়ের নাম জৈতুন বিবি।

খ। মুক্তিযুদ্ধে বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য কিছু করতে না পারলে দেশপ্রেমিক সাবুর অস্বস্তি বােধ হয়।

পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচারের মাত্রা অনুধাবন করে সাবুর মধ্যে। দেশের প্রতি মমতা জেগে ওঠে। আগে ফাইফরমাশ খাটতে সে বিরক্তি বােধ করত। আর এখন মানুষের দুর্দিনে তাদের জন্য কিছু করতে না পারলে সে অস্বস্তি বােধ করে।

গ। উদ্দীপকে ‘তােলপাড়’ গল্পের মিসেস রহমানের নিরর্থ সেবা পাওয়ার ঘটনার মিল রয়েছে।

মানুষ একে অন্যের বিপদে সাহায্য করে। বিপদ থেকে মুক্ত হওয়ার পর কেউ তা ভুলে যায়, অকৃতজ্ঞের মতাে আচরণ করে। আবার অনেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

উদ্দীপকের আমিন সাহেব রিকশার ধাক্কায় ভীষণ ব্যথা পেলে ফারুক তাকে মুক্তিযােদ্ধা জেনে শ্রদ্ধাভরে বন্ধুদের সহযােগিতায় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। আমিন সাহেব সুস্থ হয়ে ফারুককে কৃতজ্ঞতা জানান। আমিন সাহেব তাকে বকশিশ দিতে চাইলে সে জানায় মুক্তিযােদ্ধার সেবা করতে পারাই তার কাছে বড় বকশিশ । অন্যদিকে তােলপাড়’ গল্পের মিসেস রহমান ঢাকায় ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি সেনারা আক্রমণ চালালে সেখান থেকে গ্রামের দিকে যান। পথে পিপাসার্ত হয়ে পানি চাইলে সাবু তাকে পানি পান করায়। মিসেস রহমান তাকে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ পাঁচ টাকার নােট দিতে চান। সাবু তাকে জানায় এই টাকা সে নিতে পারবে না। কারণ সে মনে করে মানুষ বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করার বিনিময়ে কিছু নেওয়া অন্যায়। মূলত উভয় জায়গায় নিঃস্বার্থভাবে সেবা লাভের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে আলােচ্য গল্পের মিসেস রহমানের নিঃস্বার্থ সেবা পাওয়ার ঘটনার মিল রয়েছে।

ঘ। “উদ্দীপকের ফারুকের ভূমিকা ‘তােলপাড়’ গল্পের সাবুর ভূমিকারই প্রতিচ্ছবি”- মন্তব্যটি সম্পর্কে আমি একমত।

দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালােবাসা শুধু বড়দেরই থাকে না, ছােটদের মধ্যেও নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিলক্ষিত হয়। তারা বিভিন্নভাবে দেশ ও মানুষের প্রতি ভালােবাসা ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

‘তােলপাড়’ গল্পের সাবু সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে বিপদগ্রস্ত মানুষকে নানাভাবে সাহায্য-সহযােগিতা করেছে। পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচার দেখে তাদের প্রতি ঘৃণা জন্মেছে। দেশের প্রতি ভালােবাসা ও শ্রদ্ধায় বিপদ মােকাবিলা করতে চেয়েছে। এই সাবুর ভূমিকার প্রতিচ্ছবি দেখা যায় উদ্দীপকের ফারুকের ভূমিকার মাঝে। ফারুকও এদেশকে যারা স্বাধীন করেছেন সেসব মুক্তিযােদ্ধার।প্রতি শ্রদ্ধায় আমিন সাহেবকে সাহায্য করেছে এবং বিনিময়ে কিছুই নেয়নি, মুক্তিযােদ্ধার সেবা করাকেই বড় বলে মনে করেছে।

‘তােলপাড়’ গল্পের সাবু বিপদগ্রস্ত মানুষকে সেবা করাটাই বড় মনে করেছে, বিনিময়ে প্রতিদান আশা করেনি। আর সাবুর এই ভূমিকা উদ্দীপকের ফারুকের মধ্যে প্রতিফলিত। বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করেছে, বিনিময়ে সেবা করাটাই বড় বখশিশ বলে মনে করেছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির সাথে আমি একমত।

 

প্রশ্ন ২| 

রসুলপুর এলাকায় হঠাৎ নাম না জানা এক ভাইরাসের আক্রমণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। কয়েকজনের মৃত্যুর খবর দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দু-চারদিনের মধ্যেই তা মহামারীর আকার ধারণ  করে। এলাকার মানুষ ভয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছিল। এসব দেখে নিঃসন্তান বিধবা করিমন্নেসা তার বাড়ির যুবক ছেলেদেরকে অসুস্থ লােকদের সহায়তার পরামর্শ দেন। বাড়ির কিছু ছেলে এ পরামর্শ না শুনে ডয়ে  এলাকা ছেড়ে চলে যায়। আর অন্যরা বাড়িতে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়। এসব দেখে করিমন্নেসা মর্মাহত হয়ে নিজেই অসুস্থ রােগীদের  সেবা শুরু করলেন এবং অনেককে সুস্থ করে তুললেন।

ক. সাবু চিৎকার করে কাকে ডাকছিল?

খ. আমার মাকে আপনি চেনেন না’- এ কথা দ্বারা কী বােঝানাে হয়েছে?

গ. করিমন্নেসার চরিত্রে জৈতুন বিবির যে বৈশিষ্ট্যটি পরিলক্ষিত হয় তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “করিমন্নেসার বাড়ির ছেলেদের কর্মকাণ্ডই কি ‘তােলপাড়’ গল্পের প্রতিচ্ছবি?”- তােমার মতামত উপস্থাপন কর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক। সাবু চিষ্কার করে তার মাকে ডাকছিল।

খ। নিজের মায়ের আত্মসম্মানবােধ সম্পর্কে সাবু আলােচ্য কথাটি  বলেছে।

পাকিস্তানি সেনাদের ভয়ে পলায়নরত মিসেস রহমানকে সাবু পানি পান করায়। এর জন্য তিনি সাবুকে কিছু কিনে খাওয়ার জন্য পাঁচ  টাকা দিতে চান। কিন্তু সাবু তা নিতে অসম্মতি জানায় এবং বলে যে সে যদি টাকা নেয় তবে তার মা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবে।  তখন তিনি সাবুকে বলেন যে তার মা কিছু বলবে না। এর  পরিপ্রেক্ষিতে সাবু আলােচ্য কথাটি বলে।

গ। জৈতুন বিবির নিঃস্বার্থভাবে অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্য করার  মনােভাবের বৈশিষ্ট্য করিমন্নেসার চরিত্রের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়।

পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ ছিলেন যারা নিঃস্বার্থভাবে পরের বিপদে সাহায্য করেছেন। বিপদগ্রস্তকে সাহায্য-সহায়তা করাকে ব্রত হিসেবে নিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন। যার জন্য তারা মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন।

‘তােলপাড়’ গল্পে জৈতুন বিবি নিজে যুদ্ধের সময় অসহায় মানুষকে সাহায্য করেছিলেন এবং ছেলেকেও উৎসাহিত করেছিলেন। আর বিপদগ্রস্ত মানুষের কাছ থেকে প্রতিদানে কিছু পাওয়ার আশা করতেও নিষেধ করেছিলেন। অন্যদিকে করিমন্নেসা অজানা ভাইরাসে আক্রান্ত লােকদের সেবা দিয়ে অনেককে সুস্থ করে তােলেন। এই নিঃস্বার্থ সেবার মনােভাবের বৈশিষ্ট্যই উভয় চরিত্রে প্রতিফলিত।

ঘ। “করিমন্নেসার বাড়ির ছেলেদের কর্মকাণ্ডই ‘তােলপাড়’ গল্পের প্রতিচ্ছবি নয়। কারণ ‘তােলপাড়’ গল্পে পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠীর নির্মম অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞের ভয়ে মানুষ পালিয়ে যাচ্ছিল, আর উদ্দীপকে রােগের আতঙ্কের কথা বলা হয়েছে।

সমাজে ভীরু ও সাহসী দুরকম মানুষই বাস করে। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের বিপদে এগিয়ে আসে, আবার অনেকে নিজের জীবনের মায়ায় বিপদ দেখে পালিয়ে যায়।

উদ্দীপকে রসুলপুর গ্রামে ভাইরাসের আক্রমণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়লে করিমন্নেসা তার বাড়ির ছেলেদের পরামর্শ দেয় অসুস্থদের সেবা করার জন্য। কিন্তু বাড়ির কিছু ছেলে ভয়ে এলাকা ছাড়ে, অন্যরা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়। ‘তােলপাড়’ গল্পে জৈতুন বিবি তার ছেলেকে অসহায় মানুষকে সাহায্য করতে বলেন এবং প্রতিদানে কিছু নিতে নিষেধ করেন। ছেলে মায়ের কথামতাে মানুষকে সাহায্যসহযােগিতা করে।

উদ্দীপকের ছেলেরা বিপদগ্রস্ত মানুষকে সেবা করার বদলে পালিয়েছে, অন্যদিকে গল্পের সাবু বিপদগ্রস্ত মানুষকে যথাসাধ্য সাহায্য করেছে। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ নয়।

 

প্রশ্ন ৩। 

ভদ্রলােকের গাড়িটি নতুন। সাদা রঙের টয়ােটা করােলা। … ভদ্রলােক গাড়ির দরজা খুললেন। ছেলেটি শীতল কঠে|  বলল, গাড়িতে উঠবেন না। আপনার গাড়িটি আমাদের দরকার। চিকার-চেঁচামেচি কিছু করবেন না।… ছেলেটি বলল, আমরা মুক্তিযােদ্ধার একটি গেরিলা ইউনিট, কিছুক্ষণের ভেতর ঢাকা শহরে অপারেশন চালাব। আপনার গাড়িটা দরকার। ভদ্রলােক চাবি তুলে দিলেন। … তেল নেই। আপনাদের তেল নিতে হবে। তেল কিনবার টাকা আছে তাে? টাকা না থাকলে আমার কাছ থেকে নিতে পারেন।

[তথ্যসূত্র : আগুনের পরশমণি- হুমায়ুন আহমেদ]

ক. সমস্ত কাফেলা কেমন ছিল?

খ. সাবু কল্পনায় সিপাইদের লাথি মেরে ফুটবলের মতাে গড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে কেন?

গ. উদ্দীপকের ভদ্রলােকটির সঙ্গে ‘তােলপাড়’ গল্পের কার মিল রয়েছে?

ঘ. উদ্দীপকটি আলােচ্য গল্পের একটি বিষয়কে নির্দেশ করে মাত্র- মন্তব্যটির যৌক্তিকতা বিচার কর।

 ৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক। সমস্ত কাফেলা নীরব ছিল।

খ।  এদেশের অসংখ্য মানুষকে নির্যাতনে জর্জরিত করছিল বলেই সাবু কল্পনায় পাকিস্তানি সিপাইদের ফুটবলের মতাে লাথি মেরে গড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

১৯৭১ সালে এ দেশের অসংখ্য মানুষের ওপর পাকিস্তানি সেনাদের ব্যাপক অত্যাচার দেখে সাবু প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। সে কল্পনার চোখে দেখতে থাকে তার সামনে পাকিস্তানি সিপাই; আর সে তাদেরকে যেন ফুটবলের মতাে লাথি দিয়ে দিয়ে গড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এখানে একজন দেশপ্রেমিক কিশােরের প্রতিবাদী চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।

গ। উদ্দীপকের ভ্রদলােকটির সঙ্গে ‘তােলপাড়’ গল্পের সানুর মিল রয়েছে।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সর্বস্তরের মানুষ। কেউ সরাসরি অংশগ্রহণ করে, আবার কেউ পরােক্ষভাবে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে কাজ করে। তারা সবাই সম্মিলিতভাবে শতু হননে কাজ।

উদ্দীপকে এক জ্বলােকের কথা বলা হয়েছে, যার গাড়িটি নতুন। মুক্তিযােদ্ধাদের একটি গেরিলা ইউনিট অপারেশনের জন্য তার কাছ থেকে গাড়িটি চাইলে তিনি মুক্তিযােদ্ধাদের গাড়িটি দিয়ে দেন। তাই নয়, তিনি গাড়িতে তেল ভরার জন্য টাকাও দিতে চান। তার এই সাহায্যপ্রবণ মানসিকতা ‘তােলপাড়’ গল্পের সাবুর কথা মনে করিয়ে দেয়। সে তার মায়ের মুড়ি ভাজা আর পানি দিয়ে মানুষকে সাহায্য করে। শহর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আক্রমণে যারা প্রাণ ভয়ে পালাতে থাকে তাদের সে বিনামূল্যে মুড়ি ও পানি খাওয়ায়। তাদের বােঝা বয়ে দেয়। তাই বলা যায় যে, দেশপ্রেম ও সাহায্যকারী মনােভাবের দিক থেকে উদ্দীপকের ভদ্রলােকটির সঙ্গে ‘তােলপাড় গল্পের সাবুর মিল রয়েছে।

ঘ। উদ্দীপকটি আলােচ্য গল্পের একটি বিষয়কে নির্দেশ করে মাত্র মন্তব্যটি যৌক্তিক।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয় বাংলার মানুষ। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা প্রতিরােধ গড়ে তােলে। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বাংলার মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করে।

উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একটি ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে একজন সাধারণ মানুষ দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযােদ্ধাদের সাহায্য করেন। তিনি তার গাড়িটি মুক্তিযােদ্ধাদের ব্যবহার করতে দেন গেরিলা আক্রমণের জন্য। তার এই সাহায্যকারী মনােভাবের সঙ্গে তােলপাড়’ গল্পের সাবু ও তার মা জৈতুন বিবির মনােভাব সাদৃশ্যপূর্ণ। তারাও মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে গ্রামের দিকে আসা মানুষদের সাহায্য করে। তারা সেই মানুষগুলােকে পানি পান করায়, মুড়ি খেতে দেয়, তাদের বােঝ বইয়ে দেয়।

উদ্দীপক ও ‘তােলপাড়’ গল্প উভয় জায়গায় মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের সাহায্যকারী মনােভাব প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও আলােচ্য গল্পে পাকিস্তানিদের নির্যাতন, মানুষের প্রাণভয়ে ছুটতে থাকা, সাবুর পাকিস্তানিদের প্রতি তীব্র ঘৃণা ইত্যাদি প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

 

প্রশ্ন ৪।

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,

সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল,

সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল হরিদাসীর।

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,

শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক এলাে

দানবের মতাে চিল্কার করতে করতে।

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,

ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় হলাে। রিকয়েললেস রাইফেল ।

আর মেশিনগান খই ফোটাল যত্রতত্র।

তুমি আসবে বলে ছাই হলাে গ্রামের পর গ্রাম।

[তথ্যসূত্র : তােমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা- শামসুর রাহমান]

ক. শওকত ওসমানের প্রকৃত নাম কী?

খ. “অসীম আক্রোশে তার রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকে”- কেন?

গ. উদ্দীপকে ‘তােলপাড়’ গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “মিল থাকলেও উদ্দীপকটি ‘তােলপাড়’ গল্পের সামগ্রিক ভাবের ধারক নয়।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক। শওকত ওসমানের প্রকৃত নাম আজিজুর রহমান।

খ। অসীম আক্রোশে তার রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকে খাকি উর্দি পরা কতকগুলাে সিপাইয়ের অত্যাচারের প্রতিশােধ নেওয়ার জন্য।

‘তােলপাড়’ গল্পটি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে রচিত। এ গল্পে কিশাের সাবুর মাধ্যমে এদেশের। মুক্তিযুদ্ধে কিশােরদের অংশগ্রহণের দিকটি নির্দেশ করা হয়েছে। গল্পে সাবু অত্যাচারিত ও ক্লান্ত মানুষদের মুড়ি খাইয়ে এবং পানি পান করিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করে। সাবু দেখতে পায়, নারী-শিশু, বৃদ্ধ নির্বিশেষে সবাই শহর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। শহরত্যাগী মানুষদের অসহায়ত্ব ও দুঃখ-কষ্ট দেখে তার মন বেদনার্ত হয়ে ওঠে। পাকিস্তানিদের প্রতি তার ঘৃণা বাড়তে থাকে। অত্যাচারের প্রতিশােধ নেওয়ার জন্য সে অসীম আক্রোশে ফেটে পড়ে।

গ। উদ্দীপকে ‘তােলপাড়’ গল্পের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের দিকটি ফুটে উঠেছে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শেকলে বন্দি করতে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। তাদের নির্মম অত্যাচার থেকে এদেশের নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ কেউ রেহাই পায়নি।

উদ্দীপকের কবিতাংশে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানাে নির্মম অত্যাচারের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে দেখা যায় তাদের জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক শহরে প্রবেশ করে দানবের মতাে চিৎকার করতে করতে। এসব ট্যাঙ্কের গােলায় উজাড় হয় ছাত্রাবাস, বস্তি। প্রিয়জনকে হারিয়ে সাকিনা বিবির কপাল ভাঙে সিথির সিঁদুর মুছে যায় হরিদাসীর। ‘তােলপাড়’ গল্পেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম হত্যাযজ্ঞের খবর পেয়ে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে শহর ছাড়ে। সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পাকিস্তানি সেনারা বুড়াের তিন ছেলেকে গুলি করে হত্যা করে। আলােচ্য গল্পের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এই নির্মম

অত্যাচারের দিকটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

ঘ। “মিল থাকলেও উদ্দীপকটি ‘তােলপাড়’ গল্পের সামগ্রিক ভাবের ধারক নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদাররা এ দেশের অসংখ্য মানুষের ওপর ব্যাপক অত্যাচার চালায়। তাদের আক্রমণে গ্রাম-শহর ধ্বংসভূপে পরিণত হয়। বাংলার মানুষ এই নির্মম অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরােধ গড়ে তােলে।

উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারে আপনজন হারিয়ে সাকিনা বিবির কপাল ভাঙে, হরিদাসীর সিথির সিঁদুর মুছে যায়। শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক এসে ছাত্রবাস, বস্তি উজাড় করে দেয়। গ্রামের পর গ্রাম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তােলপাড়’ গল্পেও ১৯৭১ সালে বাংলার নিরীহ মানুষের ওপর চালানাে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমতার চিত্র উঠে এসেছে। পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে আক্রমণ চালায় শহরের মানুষের ওপর। আতঙ্কগ্রস্ত শহরের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোজে গ্রামের দিকে ছুটে যায়।

উদ্দীপকের কবিতাংশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের দিকটিই কেবল দেখা যায়। কিন্তু ‘তােলপাড়’ গল্পে পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম অত্যাচারের বর্ণনা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের সময় অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা, আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে চলা, গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন, নিপীড়িত মানুষের প্রতি সহযােগিতা, কিশাের সাবুর প্রতিবাদী মনােভাব ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে। তাই বলা যায়, মিল থাকলেও উদ্দীপকটি ‘তােলপাড় গল্পের সামগ্রিক ভাবের ধারক নয়।

 

প্রশ্ন ৫| 

কিন্তু এবার মিলিটারি আসে জিপে করে। গুলি ছুড়তে ছুড়তে। বুটের শব্দ যেন চড়চড় শব্দে ফুটছিল। যেন যেখানে পা পড়ছে সেই মাটি ফেটে চৌচির হয়ে ফুটছে। ও দূরে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। বড় সড়কের মাঝ বরাবর মিলিটারির জিপ থেকে ওরা ঝপঝপিয়ে নামে। ও ওদের বাজারের দিকে ছুটে যেতে দেখে। ও ধানগাছের আড়ালে লম্বা হয়ে শুয়ে থাকে। একটু পর পর মাথা ওঠায়। কোন দিকে গেল লােকগুলাে? পরক্ষণে ভেসে আসে আর্তনাদ। একটু পর বাজারের চালাগুলাে দাউদাউ পুড়তে থাকে। ও আতকে ধানখেতের কাদায় মিশে যায়। অবাক কাণ্ড! ও বুঝতে পারে ওর মাথার মধ্য দিয়ে দ্রুত অনেক কিছু পার হয়ে যাচ্ছে। মিলিটারি চলে গেলে ও ছুটে বাজারের সামনে এসে দাঁড়ায়। কেউ কেউ হয় আগুনে পুড়ে, নয় গুলি খেয়ে মরেছে। [তথ্যসূত্র : কাকতাড়ুয়া- সেলিনা হােসেন]

ক. প্রৌঢ় নারীর বয়স কত?

খ। সাবু কেন টাকা নিতে চাইল না? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে ‘তােলপাড়’ গল্পের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে ‘তােলপাড়’ গল্পের একটি দিকের প্রতিফলন ঘটেছে বটে তবে গরে সামগ্রিকতা আরও ব্যাপক।”- বিশ্লেষণ কর।

৫নং প্রশ্নের উত্তর

ক। প্রৌঢ় নারীর বয়স পাশের বেশি।

খ। সাবু মায়ের নিষেধের কারণে টাকা নিতে চাইল না।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদারদের ভয়ে সাবুদের গ্রামের ভেতর দিয়ে অনেকেই পালিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় সাবুর মা সাবুকে মুড়ি ভেজে দিয়েছিল পথচারীদের খাওয়ানাের জন্য। সাবু রাস্তার ধারে মুড়ি আর পানি নিয়ে বসে থাকে। পথচারীরা হাঁপিয়ে গেলে তাদেরকে মুড়ি আর পানি পান করায়। এমনই এক পথচারী প্রৌঢ় মহিলা পানি পান করে সাবুর ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাকে টাকা দিতে চাইলে সে বলে যে তার মা তাকে টাকা নিতে নিষেধ করে দিয়েছে। তার মা তাকে বলে দিয়েছে বিপদে পড়ে কেউ কাছে এলে তাকে সাহায্য করে টাকা নিতে নেই। তাই সাবু টাকা নিতে চাইল না।

গ। উদ্দীপকে ‘তােলপাড়’ গল্পের পাকিস্তানি সেনাদের নির্মমতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

পাকিস্তানি হানাদাররা ১৯৭১ সালে এদেশের ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়ে অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছিল। তাদের নির্মমতা থেকে এদেশের নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ কেউই বাদ যায়নি।

উদ্দীপকে এদেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানি সেনাদের নির্মমতার চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে দেখা যায়, গুলি ছুড়তে ছুড়তে গ্রামে সেনারা প্রবেশ করে। সেনাদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। তাদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। কেউ আগুনে পুড়ে, কেউ গুলি খেয়ে মারা যায়। তােলপাড়’ গল্পে দেখা যায়, পাকিস্তানি সেনাদের হত্যাযজ্ঞের খবর পেয়ে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যায়। সেনারা বুড়াের তিন ছেলেকে গুলি করে হত্যা করে। গল্পের পাকিস্তানি সেনাদের এই নিষ্ঠুরতার দিকটিই উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ। “উদ্দীপকটি ‘তােলপাড় গল্পের একটি দিকের প্রতিফলন ঘটেছে বটে তবে গল্পের সামগ্রিকতা আরও ব্যাপক।”- মন্তব্যটি যথার্থ ।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা এদেশের সাধারণ মানুষের ওপর। নির্মম অত্যাচার শুরু করে। অত্যাচারের ভয়ে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যাত্রা করে। এ সময় অত্যাচারিত এই মানুষদের সাহায্যার্থে অনেক সাহসী মানুষ এগিয়ে আসে।

ঘ। উদ্দীপকে পাকিস্তানি সেনাদের নির্মমতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

গ্রামের সাধারণ মানুষের ওপর তারা গুলি ছােড়ে। বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয়। ‘তােলপাড়’ গল্পেও ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ থেকে ঘটে যাওয়া কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। যেখানে উঠে এসেছে পাকিস্তানি সেনাদের নিমর্মতার কথা। সেনারা শহরের মানুষের ওপর আক্রমণ চালালে শহরের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গ্রামের অভিমুখে ছুটে যায়।

উদ্দীপকে শুধু পাকিস্তানি সেনাদের নির্মমতার দিকটিই দেখা যায় । অন্যদিকে তােলপাড়’ গল্পে পাকিস্তানি সেনাদের নির্মমতা ছাড়াও অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা, হানাদারদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে অসহায় মানুষের শহর ছেড়ে পালানাে, নিপীড়িত মানুষকে সহযােগিতা, সাবুর প্রতিবাদী মনােভাব ইত্যাদি বলা হয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের তুলনায় গল্পের সামগ্রিকতা আরও ব্যাপক। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।     

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button