গদ্য জ্ঞান

তোলপাড় গল্পের জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১। প্রৌঢ় মহিলার বাড়ি কোথায়?

উত্তর : প্রৌঢ় মহিলার বাড়ি লালমাটিয়া ব্লক ডি।

প্রশ্ন ২৷ শওকত ওসমানের প্রকৃত নাম কী?

উত্তর : শওকত ওসমানের প্রকৃত নাম- আজিজুর রহমান।

প্রশ্ন ৩। চাঙারি শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : চাঙারি শব্দের অর্থ বাঁশের তৈরি ঝুড়ি।

প্রশ্ন ৪। “তােলপাড়” গল্পের লেখক কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর : ‘তােলপাড়’ গল্পের লেখক ১৯৯৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রশ্ন ৫। সাবুর গ্রামের নাম কী?

উত্তর : সাবুর গ্রামের নাম গাবতলি।

প্রশ্ন ৬। ঢাকা শহরে কারা গুলি করে মানুষ মারছে?

উত্তর : ঢাকা শহরে পাকিস্তানি সেনারা গুলি করে মানুষ মারছে।

প্রশ্ন ৭। সব খবরই কদিন বাদে গ্রামে এসে পৌছায়?

উত্তর : দুদিন বাদে।

প্রশ্ন ৮। কার দিকে সাবু অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল?

উত্তর : এক প্রৌঢ় মহিলার দিকে সাবু অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল।

প্রশ্ন ৯। কী করলে সাবুকে তার মা বাড়ি থেকে বের করে দেবে?

উত্তর : মানুষের উপকার করে টাকা নিলে সাবুকে তার মা বাড়ি থেকে বের করে দেবে।

প্রশ্ন ১০। জনস্রোত ধরে উজানে গেলে কোথায় পৌছানাে যাবে?

উত্তর : জনস্রোত ধরে উজানে গেলে শহরে পৌছানাে যাবে।

প্রশ্ন ১১। বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য সাবুর মা কী ভেজে দেয়?

উত্তর : বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য সাবুর মা মুড়ি ভেজে দেয়।

প্রশ্ন ১২। বুড়াের কয় ছেলেকে তার সামনেই পাঞ্জাবিরা গুলি করে মেরেছে?

উত্তর : বুড়াের তিন ছেলেকে তার সামনেই পাঞ্জাবিরা গুলি করে মেরেছে।

প্রশ্ন ১৩। মিসেস রহমানের কী দেখে বােঝা যায় তিনি অনেক হেটেছেন?

উত্তর : মিসেস রহমানের মুখ দেখে বােঝা যায় তিনি অনেক হেঁটেছেন।

প্রশ্ন ১৪। তােলপাড়’ গল্পে কে পানি পান করে তৃপ্ত হয়?

উত্তর : জনৈক প্রৌঢ় নারী।

প্রশ্ন ১৫। মিসেস রহমানের বাড়ি কোথায়?

উত্তর : ঢাকার লালমাটিয়ায় ব্লক ডিতে।

প্রশ্ন ১৬। পাকিস্তানি অনুদের মােকাবিলা করার জন্য কার বুকে তোলপাড় শুরু হয়?

উত্তর : পাকিস্তানি জন্তুদের মােকাবিলা করার জন্য সাবুর বুকে তােলপাড় শুরু হয়।

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১। বুড়াের কাছ থেকে দীর্ঘশ্বাস শােনা যায় কেন?

উত্তর : ছেলে হারানাের শশাকে বুড়াের কাছ থেকে দীর্ঘশ্বাস শােনা যায়।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অনেকে নিজ গ্রাম ও শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছিল। এমন লােকের ভিড়ে একটি বৃদ্ধ লােককে দেখা যায়, যার বয়স সত্তর বছর। তার তিন ছেলেকে পাঞ্জাবি মিলিটারিরা গুলি করে মেরেছে। এই বয়সে তিনি ছেলে হারানাের শােক সহ্য করতে পারেন। তাই কিছুক্ষণ পরপর বুড়াের দীর্ঘ নিশ্বাস শােনা যায় এবং তিনি ফুপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদেন।

প্রশ্ন ২৷ “জীবন্ত যাকে পাচ্ছে তাকেই হত্যা করছে।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : জীবন্ত যাকে পাচ্ছে, তাকেই হত্যা করছে।’- উক্তিটি দ্বারা পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা ও পৈশাচিকতা বােঝানাে হয়েছে।

পশ্চিম পাকিস্তানি সেনারা রাতের আঁধারে ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর হামলা চালায়। ঢাকার অসংখ্য মানুষকে গুলি করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে এবং আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে। আলােচ্য উক্তিটি দ্বারা এটাই বােঝানাে হয়েছে।

প্রশ্ন ৩। সাবু পানি জোগানাের কাজে এগিয়ে যায় কেন?

উত্তর : লােকজনের মুড়ি খাওয়া শেষ হলে সাবু তাদের জন্য পানি জোগাতে এগিয়ে গেল।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকায় অতর্কিত আক্রমণ করে। এতে প্রাণহানি ঘটে অসংখ্য মানুষের। আর যারা বেঁচে ছিল তারা কোনােমতে প্রাণ নিয়ে গ্রামের দিকে পালিয়ে যেতে থাকে। মা সাবুকে বলে পরিশ্রান্ত মানুষকে মুড়ি ও পানি দিয়ে সাহায্য করার জন্য। পরিশ্রান্ত, , তৃষ্ণার্ত এসব মানুষকে সহযােগিতা করার প্রয়ােজনকে উপলব্ধি করে সে খাবার ও পানি জোগানাের কাজে এগিয়ে যায়।

প্রশ্ন ৪৷ “কী ফরসা চেহারা। যেন কোনাে ধলা পরী।”- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : কী ফরসা চেহারা! যেন কোনাে ধলা পরী।’- উক্তিটি দ্বারা মিসেস রহমানের সৌন্দর্য ও আভিজাত্য ফুটিয়ে তােলা হয়েছে।

জনৈক প্রৌঢ় মহিলাকে দেখে সাবু অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। কারণ এত সুন্দর চেহারা অথচ পরিস্থিতির কারণে এখন কী করুণ অবস্থায় পড়তে হয়েছে। হয়তাে এমন হাঁটার অভিজ্ঞতা তার নেই। কিন্তু আজ তাকে হাঁটতে হচ্ছে। মূলত উক্ত বাক্যের মাধ্যমে মিসেস রহমানের সৌন্দর্য ও আভিজাত্য বােঝানাে হয়েছে।

প্রশ্ন ৫৷ সাবুর বুকে তােলপাড় শুরু হওয়ার কারণ দেখাও।

উত্তর : সাবুর বুকে তােলপাড় শুরু হওয়ার কারণ হলাে শত্রুদের প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণা অনুভব।

সাবু যদিও কখনাে ঢাকা শহরে যায়নি বা ঢাকায় মিলিটারির তাণ্ডব দেখেনি, কিন্তু পালিয়ে আসা মানুষের দুরবস্থা দেখে, তাদের মুখে নৃশংসতার বর্ণনা শুনে তা কল্পনা করতে পারে। সে শত্রুদের প্রতি প্রচণ্ড রােষে ফেটে পড়ে। এসব ঘৃণ্য পশুকে মােকাবিলা করার জন্যই সাবুর মনে তােলপাড় শুরু হয়ে যায়।

প্রশ্ন ৬৷ সাবুর ‘মা, মা’ বলে চিৎকার করে ঘরে ঢােকার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ঢাকা শহরে পাকিস্তানি সেনারা মানুষ গুলি করে মারছে- এ খবর শুনে সাবু উত্তেজিত হয়ে পড়ার কারণেই ‘মা, মা’ বলে চিল্কার করে ঘরে ঢােকে।

২৫শে মার্চ রাতে ঢাকা শহরে ঘুমন্ত মানুষের ওপর পাকিস্তানি সেনারা নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। অগণিত মানুষকে বিভিন্ন যন্ত্রণা দিয়ে হত্যা করে। একদিন পর সাবু এ কথা শুনে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। এ খবর মাকে দিতেই সাবু ‘মা, মা’ বলে চিৎকার করতে করতে ঘরে ঢােকে।          

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button