পদ্য মূলভাব

জন্মভূমি কবিতার মূলভাব ও ব্যখ্যা  

কবিতাটি অনুশীলন করে আমরা যা জানতে পারব

  • মানবজীবনের প্রকৃত সুখ সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারব।
  • স্বার্থপরতা ত্যাগ করে মানবপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হব।
  • আত্মকেন্দ্রিক আর সমাজ-বিচ্ছিন্ন মানুষ কখনাে প্রকৃত সুখী হতে পারে না- এই সত্য সম্পর্কে অবহিত হব।
  • সকল সংকট মােকাবিলা করে জীবনসংগ্রামে সফল হওয়ার আত্মবিশ্বাস লাভ করব।
  • পরকে আপন ভেবে তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়ার মধ্যেই প্রকৃত সুখ— এটা উপলব্ধি করতে পারব।
  • সুখ সুখ করে না কেঁদে পরের সেবায় নিজেকে নিয়ােগ করলেই সুখের সন্ধান মেলে—এ বিষয়টি বুঝতে পারব।
  • আমরা প্রত্যেকেই পরস্পর নির্ভরশীল- এটা অনুধাবন করতে পারব।
  • মানবপ্রেমই সুখের চাবিকাঠি- এ ধারণায় বিশ্বাস স্থাপন করতে পারব।

 

জন্মভূমি কবিতার পাঠের উদ্দেশ্য

আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করে মানবপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া।

জন্মভূমি কবিতার মূলভাব

আমরা সবাই জীবনে সুখী হতে চাই। কিন্তু কীভাবে জীবনে সুখ আসতে পারে, ‘সুখ’ কবিতায় কবি সে সম্পর্কে তার ধারণা তুলে ধরেছেন।

জগতে যারা কেবল সুখ খোঁজেন তারা জীবনে দুঃখ-যন্ত্রণা দেখে ভাবেন মানুষের জীবন নিরর্থক। এ ধারণা ভুল। জীবনের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য অনেক বিস্তৃত, অনেক মহৎ। দুঃখ-যন্ত্রণা সয়ে, সকল সংকট মােকাবিলা করে জীবনসংগ্রামে সফলতার মাধ্যমেই সুখ অর্জিত হয়। কিন্তু সমাজের অন্য সবার কথা ভুলে কেউ যদি কেবল নিজের স্বার্থ দেখে, সে হয়ে যায় আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। আর সমাজ-বিচ্ছিন্ন মানুষ প্রকৃত সুখ লাভ করতে পারে না। পক্ষান্তরে অন্যকে আপন ভেবে, অন্যের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে প্রীতি, ডালােবাসা, সেবা ও কল্যাণের মাধ্যমে যে অন্যের মঙ্গলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে সেই প্রকৃত সুখী। বস্তুত মানুষ সামাজিক জীব। পারস্পরিক ত্যাগের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে মানবসমাজ। এ সমাজে প্রতিটি মানুষ একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই অন্যকে বাদ দিয়ে এ সমাজে একা বাঁচার কথা কেউ ভাবতে পারে না, সুখী হওয়া তাে দূরের কথা।

 

জন্মভূমি কবিতার ব্যখ্যা

→ কে, কী করে সুখী হয়- এ বিষয়ে তােমার সহপাঠীদের মতামত  নিয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা কর। প্রবন্ধে প্রত্যেকের মতামত হুবহু  উদ্ধৃত করার চেষ্টা করবে।

উত্তর নির্দেশনাঃ

সুখ কী : সুখ হচ্ছে মনের এমন একটি অবস্থা, যখন কেউ দুশ্চিন্তামুক্ত থাকে, আনন্দঘন অবস্থায় থাকে। যেকোনাে প্রকার অসুখ থেকে মুক্ত অবস্থাই সুখ।

কে, কী করে সুখী হয় : এ বিষয়ে তােমার সহপাঠীদের মতামত নিবে এবং নিজে প্রবন্ধটি লিখবে। এ ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত পরামর্শগুলাে মনে রাখতে পার :

১. যারা সত্য কথা বলে, কোনাে কিছু জানতে চাইলে ধীরস্থিরভাবে উত্তর দেয়, সেরকম সহপাঠী নির্বাচন করতে হবে।

২. তুমি তাদের কাছে যখন জানতে চাইবে, তখন সুন্দরভাবে  হাসিমুখে, মিষ্টি করে জানতে চাইবে। তাতে কেউ যদি তােমাকে  তিরস্কার করে বা কটু কথা বলে, রাগ করাে না, কষ্ট পেয়াে না,  বুঝিয়ে বুলবে। মনে রাখবে যেকোনাে ভালাে কাজ করতে চাইলে সাহস, ধৈর্য, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা, মানবতাবােধ ইত্যাদি গুণ আয়ত্ত করতে হয়।

 

নমুনা :

আমি ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছি। ‘সুখ’ কবিতাটি পড়ে কে, কী করে  সুখী হয় তা জানার দারুণ কৌতূহল হলাে আমার। আমি প্রথমে  আমার নিজের কথা ভাবলাম, করে আমি সুখী হই। পরে  ভাবলাম, আমার সহপাঠীদের কাছে বিষয়টি জেনে দেখি। কিন্তু কার কাছে জানতে চাইব? সবার কাছে? না, কয়েকজনের কাছে জানলেই হবে। দশজনের তালিকা করলাম। যারা স্পষ্ট কথা বলে, ফাঁকি দেয় না, মিথ্যা বলে না, ভুল কামাই করে না। এছাড়া এরা ক্লাসে মনােযােগী, পরীক্ষায় ভালাে করতে তৎপর এবং স্কুলের নানা রকম অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। আমার চেয়েও অনেকে ভালাে করে, আমি, তাদের ভালােবাসি, বন্ধু ভাবি। যাদের তালিকা করলাম, তাদের দুটি দলে ভাগ করে নিলাম। দুদিন টিফিন পিরিয়ডে কথা বলব বলে ওঁদের জানালাম। তারাও রাজি হলাে। আমি তাদের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে আসতে বললাম। আমিও তৈরি হলাম। পরদিন সময়মতাে পাঁচজনকে নিয়ে বসলাম। আমি আমার প্রশ্ন করলাম, তারা একেকজন একেকভাবে সুখী হওয়ার কথা বলল। বুশরা বলল, “সব পড়া শেষ করে যখন একটা ছবি আঁকতে বসি, মা দেখেও কিছু বলে না, তখন আমি সবচেয়ে সুখী।” রিয়ানা বলল, “যখন কারও একটা উপকার করতে পারি, তখন আমার সবচেয়ে বেশি সুখ লাগে।”, পিংকি বলল, “স্কুলের পথে। যেদিন জ্যামে পড়ি না, তখন নিজেকে সুখী মনে হয়। সােমা বলল, “আমি মাকে খুব ভালােবাসি, তার কোনাে কাজে সহযােগিতা করতে পারলে, তার কথাগুলাে মেনে চলতে পারলে, আমি সুখ পাই।” “যে বিষয়গুলাে আমাকে কষ্ট দেয়, সেগুলাে আমি একদম ভুলে যাই, আর মনে মনে ভালাে কাজ করার কথা ভাবতে থাকি। আমি সব সময় সুখী”- বলল ফারসিনা।

পরদিন অন্য পাঁচজনের সঙ্গে বসে প্রায় একই রকম ধারণা পেলাম। তারপর সবাই একসঙ্গে বসে আলােচনা করে বিজ্ঞের মতাে আমি বললাম, মনের সুখই বড় সুখ। সবাই আমাকে থামিয়ে দিয়ে সমস্বরে বলে উঠল পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলি দাও, তার মতাে সুখ কোথাও কি আছে? আপনার কথা ভুলিয়া যাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button