পদ্য মূলভাব

আসমানী কবিতার মূলভাব ও ব্যাখা

পাঠের উদ্দেশ্য

মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সামাজিক দায়বােধ জাগ্রত করা।

পাঠ পরিচিতি/বস্তুসংক্ষেপ

পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের ‘আসমানি’ কবিতায় গ্রামবাংলার জীবন ও প্রকৃতির ছবি সহজ-সরল ও সাবলীল ছন্দে ফুটে উঠেছে। রসুলপুর দারিদ্র্যপীড়িত একটি গ্রাম। এ গ্রামেই বাস করে আসমানি ও তার পরিবার। পাখির বাসার মতাে ছােট্ট বাড়ি তাদের যা একটুখানি বৃষ্টি বা বাতাসে ভেঙে পড়ার উপক্ৰম হয়। অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। এ জন্য পেট ভরে খেতে না পেয়ে আসমানির শরীর কঙ্কালসার অবস্থা। অসংখ্য তালি দেওয়া কাপড় পরতে হয় তাকে। তার ভ্রমর কালাে চোখ থেকে কান্নার পানি কখনাে শুকায় না। বাড়ির পাশের শেওলা-পানা ভরা পুকুরের অপরিষ্কার পানি দিয়ে নিত্যদিনের কাজকর্ম করার জন্য অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকে। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা বা ওষুধও কিনতে পারে না। আসমানিদের পরিবারের অভাবের এই নিষ্ঠুর চিত্র কবিতাটিতে অঙ্কিত হয়েছে যা-দারিদ্র্যপীড়িত গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি।

 

১। ছুটিতে গ্রামে গিয়ে কবিতায় বর্ণিত জীবনের সঙ্গে মেলে এমন পরিবারের ঘরদোর, পােশাক, খাবার ইত্যাদির একটি তালিকা প্রস্তুত কম।

উত্তর : গত গ্রীষ্মের ছুটিতে আমি বাবা-মা’র সাথে গ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দরিদ্র মানুষের জীবনচিত্র, তাদের ঘর-বাড়ি, পােশাকপরিচ্ছদ, খাবার-দাবার ইত্যাদি লক্ষ করলাম, যা ‘আসমানি’ কবিতায় বর্ণিত জীবনের সঙ্গে মিলে যায়। যেমনঘরবাড়ি : গ্রামের দরিদ্র মানুষগুলাের ঘরবাড়ির অবস্থা খুবই করুন। বাঁশ কিংবা বুনাে গাছের খুঁটির ওপর ঘরগুলাের জীর্ণশীর্ণ অবস্থা। কোনাে কোনাে ঘরের চাল নুইয়ে পড়েছে। কোনােটার খুঁটি ভেঙে পড়ার অবস্থা। কোনাে ঘরের চালের খড় বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। সেখানে চারদিক আবর্জনা-জঞ্জালে পরিপূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

পােশাক : গ্রামের অভাবী মানুষগুলাের পােশাকের অবস্থা ঘরদোরের মতােই জরাজীর্ণ। পুরুষের পরনে হেঁড়া লুঙ্গি, গায়ে মলিন গাম, নারীদের পরনে অসংখ্য তালি দেওয়া কাপড়, বাচ্চাদের বেশিরভাগের গায়েই বস্ত্র নেই।

খবর : গ্রামের দরিদ্র মানুষ, প্রায়ই অনাহারে-অর্ধাহারে থাকে। সারাদিনের কেউ একবেলা খাবার খায় তাও অল্প। আবার কেউ খায় মােটা চালের ভাত কিংবা কেউ লাল আটা রুটি। সাথে কখনাে কচুশাক, কলমি শাক, ছােট মাছ, শাপলা-শালুক কখনাে লবণটুকুও থাকে না।

 

২। উক্ত তালিকার ভিত্তিতে গরিব মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বর্ণনা দাও।

উত্তর : গ্রামের দরিদ্র মানুষগুলাে দুর্বিষহ জীবনযাপন করে।

তাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার ধরন প্রায় একই রকম, বৈচিত্র্যহীন। তারা দিন আনে দিন খায়। সবাই আবার সারাদিন খাটুনির পরও পরিবারের সদস্যদের মুখে পর্যাপ্ত খাবার তুলে দিতে পারে না। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে খেত-খামারে, অন্যের বাড়িতে মজুরি দিয়ে সংসার চালানাের চেষ্টা করে। কেউবা ঝড়বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে ঘরের ভাঙা চালে নতুন খড় বা শন দেয়, কেউবা খুঁটি লাগায়। যার সামর্থ্য নেই সে ঝড়-বৃষ্টিতে কষ্ট করে। কেউবা চাল-আটার সংস্থান করতে না পেরে মাঠ থেকে শাপলা, শালুক কিংবা কচু শাক সংগ্রহ করে আনে খাওয়ার জন্য। নারীরা কাজের ফাকে ফাকে পােশাকের ছেড়া জায়গায় তালি দেয়। ছােট ছেলেমেয়েরা নদী বা খাল থেকে ছােট মাছ সংগ্রহ করে। গ্রামের পুকুর বা ডােবার পানি গােসল, খাওয়া ও রান্নার কাজে ব্যবহার করে। ফলে তারা প্রায়ই জুর কিংবা পেটের পীড়ায় ডােগে। পরিবারের কারও অসুখ হলে টাকার অভাবে ডাক্তার তাে দূরের কথা, পথ্যও জোটে না। ফলে অকাল মৃত্যু তাদের নিত্যদিনের ঘটনা। এমনিভাবেই দরিদ্র গ্রামবাসীর দুর্দশময় জীবনধারা চলতে থাকে।     

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button