পদ্য সৃজনশীল

আসমানি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১।

কিনু গােয়ালার গলি

দোতলা বাড়ির

লােহার গারদ দেওয়া একতলা ঘর

পথের ধারেই।

লােনা-ধরা দেয়ালেতে মাঝে মাঝে ধসে গেছে বালি,

মাঝে মাঝে সঁাতা-পড়া দাগ।

আমি ছাড়া ঘরে থাকে আর একটা জীব

এক ভাড়াতেই,

‘সেটা টিকটিকি।

তফাত আমার সঙ্গে এই শুধু

নেই তার অন্নের অভাব। [তথ্যসূত্র :বশি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]

ক. আসমানির গলার সুর কিসের মতাে?

খ. আসমানিদের বাড়িকে ‘পাখির বাসা’ বলা হয়েছে কেন?

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘আসমানি’ কবিতার সাদৃশ্য কোথায়?

ঘ. উদ্দীপকটি আলােচ্য কবিতার সম্পূর্ণ অংশ ধারণ করে কি? যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রদান কর।

১নং প্রশ্নের উত্তর

ক। আসমানির গলার সুর বাঁশির মতাে।

খ। শক্ত ও মজবুত না হওয়ায় আসমানিদের বাড়িকে ‘পাখির বাসা’ বলা হয়েছে।

‘আসমানি’ কবিতায় আসমানিদের দরিদ্রতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে কবি বলেছেন, তারা যে বাড়িতে থাকে সেটা আসলে বাড়ি নয়, যেন পাখির বাসা। পাখির বাসা যেমন সামান্য ঝড়ে নড়বড় করে, পানিতে ভিজে যায়, আসমানিদের বাড়িটি তেমনই। আসমানিদের বাড়িটি ভেন্না পাতা দিয়ে ছাউনি দেওয়া। বৃষ্টি হলেই চাল দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে, আর সামান্য ঝড় হলেই ঘর নড়বড় করে। এ কারণেই আসমানিদের বাড়িকে ‘পাখির বাসা’ বলা হয়েছে।

গ। উদ্দীপকের সঙ্গে ‘আসমানি’ কবিতার দরিদ্র মানুষের দুঃখকষ্টময় জীবনের সাদৃশ্য রয়েছে।

আমাদের সমাজের সব মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা সমান নয়। কেউ সুখী-সমৃদ্ধ জীবন কাটায়, আবার কেউ খাদ্য-বস্ত্রের সংস্থানও করতে পারে না। তাদের জীবন অতি কষ্টে অতিবাহিত হয়।

উদ্দীপকের কবিতাংশে কিনু গােয়ালার গলিতে অবস্থিত দোতলা বাড়ির কথা বলা হয়েছে। যেখানে পথের ধারেই লােহার গারদ দেওয়া একতলা ঘর। লােনা-ধরা দেওয়াল মাঝে মাঝে ধসে গেছে। স্যাতসেঁতে দাগ পড়া সেই ঘরে যে ব্যক্তিটি থাকে তার অন্নেরও অভাব। আসমানি’ কবিতায়ও আসমানিদের দারিদ্র্যের নির্মম অবস্থার কথা বলা হয়েছে। তাদের বাড়িটি পাখির বাসার মতাে, একটু বৃষ্টি হলে

জল গড়িয়ে পড়ে। একটু হাওয়া লাগলে ঘরটি নড়বড় করে। সে ঠিকমতাে খেতে পায় না। মলিন ও ছেড়া তাদের পােশাক। বাড়ির আশপাশটাও অস্বাস্থ্যকর উদ্দীপক ও আলােচ্য কবিতা উভয় জায়গায় চরম দারিদ্র্য প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সকো। ‘আসমানি’ কবিতার দরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্টময় জীবনের সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ। না, উদ্দীপকটি আলােচ্য কবিতার সম্পূর্ণ অংশ ধারণ করে না।

সমাজে সব ধরনের মানুষ একসঙ্গে বাস করলেও সবার জীবন একই রকম নয়। অনেকে অসীম সুখ ভােগ করলেও বেশিরভাগ লােকই সীমাহীন দুঃখে থাকে। একে অন্যকে সাহায্য করলে তারা ভালােভাবে বাঁচতে পারে।

উদ্দীপকে এক ব্যক্তির হাক্কার জায়গার করুণ অবস্থার কণ ফুটে উঠেছে। তার অবস্থা দেখে বােঝা যায় সে অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ। আসমানি’ কবিতায় কবি আসমানির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের থাকার কথা তুলে করেছেন। এ বিষয়টি ছাড়াও আলােচ্য কবিতার মধ্য দিয়ে কবি সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের জীবনযাপন ও অভাবের কথা প্রকাশ করেছেন। দারিদ্র্যের নির্মম শিকার আসমানির পরনে ভেঁড়া কাপড়। ঠিকমতাে খেতে পায় না। প্রায়ই পেটের অসুখে ভােগে, অর্থাভাবে চিকিৎসাও করাতে পারে না। তাদের জীবনে কোনাে আনন্দ নেই।

উদ্দীপকের কবিতাংশে শুধু বাসস্থানের জীর্ণ অবস্থার কথাই প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে আসমানি’ কবিতার কবি কেবল আসমানিদের দুঃখ-কষ্টই বর্ণনা করেননি, তার কারণও বলেছেন। সমাজের এমন মানুষদের প্রতি কবির গভীর সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি আলােচ্য কবিতার সম্পূর্ণ অংশ ধারণ করে না।

 

প্রশ্ন ২।

আমাদের অভাবের দরিদ্র সংসারে

উত্ত্যক্ত মায়ের মুখে নিত্য বারেবারে

কত ভাবে সেই এক কথা শুনিয়াছিমরে গেলে বাচি,

শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসে, অভাবের নিত্য আরাধনা,

কোথা গেলে শান্তি পাব? মিটিবে যন্ত্রণা?

গ্রামে যাই, শুনি সেই ক্ষুধিত জর্জর

কৃষক মেয়ের কণ্ঠে ক্লান্ত আর্তর

মরে গেলে বাচি। [তথ্যসূত্র : মরাবাঁচা গােলাম কুন্দুস।]

ক. আসমানিদের বাড়ি কোথায়?

খ. ‘ভােমর-কালাে চোখ দুটিতে নাই’ – কেন?

গ. উদ্দীপকটি ‘আসমানি’ কবিতার কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘আসমানি’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করে কি? তােমার মতামতের পক্ষে যুক্তি দাও।

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক। আসমানিদের বাড়ি রসুলপুর।

খ। অভাবের তাড়নায় আসমানির ভােমর-কালাে চোখ দুটিতে হাসি নেই।

আপনি নিতান্ত দরিদ্র পরিবারের এক কিশােরী। অভাবের নিষ্ঠুর থাবায় তার সমস্ত সৌন্দর্য, সমস্ত হাসি হারিয়ে গেছে। অনাহারে থেকে থেকে বুকের হাড় জেগে উঠেছে। তার ভােমর-কালাে দুটি চোখে শুধুই হতাশা আর বেদনা, সেখানে কোনাে হাসি নেই।

গ। উদ্দীপকটি ‘আসমানি’ কবিতায় প্রকাশিত দারিদ্র্যের অভিশাপের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

অভাব সমাজের একটি অভিশাপম্বরূপ। এটি মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেয়। মানুষ অভাবে পতিত হলে মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য সে যেকোনাে কাজ করতে প্রস্তুত থাকে।

উদ্দীপকে দারিদ্র্যের নির্মমতার দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। অভাবের তাড়নায় মানুষের শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। দারিদ্র্যের বিষাক্ত ছােবল সহ্য করতে না পেরে মা আপন কন্যার মৃত্যু কামনা করে। এই দিকটি ‘আসমানি’ কবিতায়ও উপস্থাপিত হয়েছে। আসমানিদের সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। খেতে না পেয়ে ‘আসমানির শরীর জীর্ণশীর্ণ হয়ে গেছে। মুখের হাসি মুছে গেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে থেকে ত্বর, পেটের অসুখ লেগেই থাকে; কিন্তু চিকিৎসার কোনো সুযােগ নেই, পথ্যও জোটে না। অভাবের এই নিষ্ঠুর দিকটি উদ্দীপকেও দেখা যায়। এটিই উভয় কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক।

ঘ। না, উদ্দীপকটি ‘আসমানি’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি। কারণ ঐ ভাব ছাড়াও এ কবিতায় আরও ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।

এ সংসারে যদি অভাব নিত্যসঙ্গী হয় তবে সেখানে মায়া, মমতা, মনুষ্যত্ব বেঁচে থাকতে পারে না। জীবনাচরণ হয়ে যায় পশুর মতাে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই অভাবী।

উদ্দীপকের কবিতাংশে দারিদ্র বা অভাবের নিষ্ঠুর থাবার চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়টি ‘আসমানি’ কবিতায়ও উপস্থিত। তবে উক্ত বিষয়ের সঙ্গে বেশকিছু বিষয় আলােচ্য কবিতায় সন্নিবেশিত হয়েছে।

‘আসমানি’ কবিতায় দেখা যায়, আসমানি হতদরিদ্র এক পরিবারের কন্যা। তাদের বাসা পাখির বাসার মতাে হালকা। একটু বৃষ্টিতেই তা নড়বড় করে। ঠিকমতাে খেতে পায় না বলে সে অসুখে ভােগে। বশির মতাে তার গলার সুরটি কেঁদে কেঁদে নষ্ট হয়ে গেছে, মুখের হাসি মিলিয়ে গেছে। এসব বিষয়ের সম্পূর্ণটুকু উদ্দীপকে উপস্থাপিত হয়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি আসমানি’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করেনি।

 

প্রশ্ন ৩। 

হরিহরের বাড়িটাও অনেক দিন হইয়া গেল  মেরামত হয় নাই, সামনের দিকের রােয়াক ভাঙা, ফাটলে বন-বিভুটির ও কালমেঘ গাছের বন গজাইয়াছে- ঘরের দোর-জানালার কপাট সব ভাঙা,  নারিকেলের দড়ি দিয়া গরাদের সঙ্গে বাঁধা আছে।

[তথ্যসূত্র: আম-আঁটির ভেঁপু – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]

ক. আমানিকে দেখতে হলে কার বাড়িতে যেতে হবে?

খ. আসমানিদের দরিদ্রতার কথা ফুটে উঠেছে কোন লাইনে?

গ. উদ্দীপকে ‘আসমানি’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? আলােচনা কর।

ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি আসমানি’ কবিতার একটি দিকের প্রতিফলন মাত্র, সামগ্রিকতা নয়।” মন্তব্যটি যাচাই কর।

৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক। আসমানিকে দেখতে হলে রহিমদ্দির ছােট্ট বাড়িতে যেতে হবে।

খ। আসমানিদের দরিদ্রতার কথা ফুটে উঠেছে প্রশ্নোত লাইনটিতে।

‘আসমানি’ কবিতায় আসমানিদের দরিদ্রতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে কবি বলেছেন, তারা যে বাড়িতে থাকে সেটা আসলে বাড়ি নয়, পাখির বাসা যেন। পাখির বাসা যেমন সামান্য ঝড়ে নড়বড় করে, পানিতে ডিজে যায়, আসমানিদের বাড়িটিও তেমনই বােঝাতে কবি একথা বলেছেন। আসমানিদের বাড়িটি ভেন্না পাতা দিয়ে ছাউনি দেওয়া। বৃষ্টি হলেই সেদিক দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে আর ঝড় হলে ঘর নড়বড় করে। কিন্তু এই বাড়িতেই আসমানিদের বছর ভরে থাকতে হয়। এ কারণে কবি আসমানিদের বাড়িকে পাখির বাসার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

গ। উদ্দীপকে ‘আসমানি’ কবিতার আসমানিদের ঘরের শােচনীয় অবস্থার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

বাংলাদেশের বিপুল জনগােষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার মধ্যে বাস করে। এদেশের মানুষ তাদের মৌলিক চাহিদাগুলােও পূরণ করতে পারে না। তাই তাদের বাসস্থানেও জীর্ণতার ছাপ পরিলক্ষিত হয়।

‘আসমানি’ কবিতায় কবি ‘আসমানিদের হতদরিদ্র অবস্থার কথা বর্ণনা করেছেন। আসমানিদের ঘরের অবস্থা ও আয়তন এত ছােট যে, পাখির বাসা বলে মনে হয়। ঘরের নড়বড়ে খুঁটির উপর ভেন্না পাতার ছাউনি দেওয়া। একটু বৃষ্টিতেই সেই পাতার ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে। সামান্য বাতাসে নড়বড় করে। উদ্দীপকের হরিহরের বাড়িটায়ও আসমানিদের মতাে দারিদ্র্যের ছাপ পরিলক্ষিত হয়। বাড়িটা অনেক দিন মেরামত না করায় সামনের দিকের রােয়াক ভাঙা। ঘরের দোরজানালার কপাট সব ভাঙা, যা নারিকেলের দড়ি দিয়ে গরাদের সঙ্গে বাধা। এভাবে উদ্দীপকে ‘আসমানি’ কবিতার আসমানিদের বাসস্থানের দারিদ্র্যের ছাপের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ। “উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি ‘আসমানি’ কবিতার একটি দিকের প্রতিফলন মাত্র, সামগ্রিকতা নয়।” মন্তব্যটি যথার্থ।

দারিদ্র মানুষের জীবনে বড় অভিশাপ। দারিদ্র্যের কারণে মানুষ অন্নবস্ত্রের সংস্থান করতে হিমশিম খায়। অভাবের যন্ত্রণা তাদের সবসময় তাড়িত করে। আর এই দারিদ্র্যের ছাপ তাদের বাসস্থানেও দেখা যায়।

‘আসমানি’ কবিতায় কবি দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত আসমানিদের কষ্টের চিত্র তুলে ধরেছেন। অভাবের তাড়নায় তারা খাবার পর্যন্ত জোগাড় করতে পারে না। অসুখের সময় ওষুধ-পথ্য জোটে না। শত চেষ্টা করেও তারা অভাবের হাত থেকে রেহাই পায় না। আসমানিদের বাসস্থানেও রয়েছে জীর্ণতার ছাপ। নড়বড়ে খুঁটির উপর ভেন্না পাতায় ছাওয়া ঘরটি পাখির বাসার মতাে। একটু বৃষ্টিতেই পানি পড়ে, সামান্য বাতাসেই নড়বড় করে। উদ্দীপকের হরিহরের বাড়িটাও আসমানিদের ঘরের মতাে ভাঙাচোরা।

উদ্দীপকে ‘আসমানি’ কবিতার আসমানিদের বাসস্থানের জরাজীর্ণ অবস্থার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু ‘আসমানি’ কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন আসমানি নামের এক দরিদ্র কিশােরীর জীবনধারার করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। আর উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি আলােচ্য কবিতার একটি দিকের প্রতিফলন ঘটালেও সামগ্রিকতা প্রকাশ করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

 

প্রশ্ন ৪।

রুগণ ছেলের শিয়রে বসিয়া একেলা জাগিছে মাতা,

করুণ চাহনি ঘুম ঘুম যেন ঢুলিছে চোখের পাতা।

শিয়রের কাছে নিবু নিবু দীপ ঘুরিয়া ঘুরিয়া জ্বলে,

তারি সাথে সাথে বিরহী মায়ের একেলা পরাণ দোলে।

ভন ভন ভন জমাট বেঁধেছে বুননা মশকের গান

এঁদো ডােবা হতে বহিছে কঠোর পচান পাতার ঘ্রাণ।

ছােট কুঁড়েঘর, বেড়ার ফাঁকেতে আসিছে শীতের বায়ু,

শিয়রে বসিয়া মনে মনে মাতা গণিছে ছেলের আয়ু।

[তথ্যসূত্র : পল্লিজননী- জসীমউদ্দীন]

ক. কবি জসীমউদ্দীনের গ্রামের নাম কী?

খ. “পেটটি তাহার ফুলছে পিলেয়, নিতুই যে জ্বর তার”? চরণটি বুঝিয়ে লেখ।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘আসমানি’ কবিতার কোন বিষয়টির সাদৃশ্য রয়েছে?

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘আসমানি’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক। কবি জসীমউদ্দীনের গ্রামের নাম তাম্বুলখানা।

খ। উল্লিখিত চরণে আসমানির শারীরিক অসুস্থতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।

হতদরিদ্র আসমানিরা থাকে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। তাদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুরে শেওলা-পানা ও ব্যাঙের ছানায় পরিপূর্ণ। অত্যন্ত নােংরা সে পুকুরের পানি। ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী মশা সেখানে বংশবিস্তার করে। সেই পুকুরের দূষিত পানি খাওয়া এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করার জন্য অসুখ তাদের লেগেই থাকে। পেটের পীড়া, ম্যালেরিয়া জ্বরে সে প্রতিদিনই ভােগে। উদ্ধৃত চরণে এটাই বােঝানাে হয়েছে।

গ। উদ্দীপকের সঙ্গে ‘আসমানি’ কবিতায় প্রকাশিত অস্বাস্থ্যকর ও নােংরা পরিবেশের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।

মানুষ অভাবে পড়লে তার অপছন্দের কাজ করতেও বাধ্য হয়। খাবার সংগ্রহের চিন্তায় থাকলে কোনাে ব্যক্তিই পরিবেশের ওপর লক্ষ রাখতে পারে না। বনের পশুও যেখানে থাকতে চায় না, মানুষ সেখানে থাকতে বাধ্য হয়।

উদ্দীপকে এক দরিদ্র পল্লিজননীর দুর্দশার চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। ছেলের অসুখে তিনি ছােট কুঁড়েঘরে নিঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বাড়ির পাশে রয়েছে নােংরা ডােবা। সেখান থেকে পচা পাতার গন্ধ আসে, বুনাে মশা জ্বালাতন করে। এই চিত্র ‘আসমানি’ কবিতায়ও দেখা যায়। আসমানিদের পাখির বাসার মতাে ছােট ঘরটিও নােংরা পদ্ম-পুকুরের কাছে। সেখানে ব্যাঙের ছানা, ম্যালেরিয়ার মশা, শেওলায় ভরপুর। কবিতার এই বিষয়টির সঙ্গেই উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ। ‘উদ্দীপকটি ‘আসমানি’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। অভাবের তাড়নায় তারা মৌলিক চাহিদাগুলােও পূরণ করতে পারে না।

উদ্দীপকে এক দুঃখিনী পল্লিজননীর মর্মবেদনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে তিনি জেগে আছেন সারারাত। অভারের জন্য ছেলের ওষুধ-পথ্য দিতে পারেননি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সময়টি আরও অসহনীয় হয়ে পড়েছে। এ বিষয়টি ‘আসমানি’ কবিতায়ও উপস্থিত। কিন্তু এটুকুই কবিতার সমস্ত বিষয় নয়। এটা ছাড়াও কবিতায় নানাবিধ ভাব ও বিষয় উঠে এসেছে।

‘আসমানি’ কবিতায় দারিদ্র্যের চরম নিষ্ঠুর দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। অভাবের তাড়নায় আসমানিরা অনাহারে থাকে। পাখির বাসার মতাে ছােট ঘরে ঝড়-বৃষ্টি হলে চরম দুর্দশায় পড়তে হয়। খেতে না পেয়ে মুখের হাসি অনেক আগেই মিলিয়ে গেছে তার। বাশির মতাে গলার সুরটি কেঁদে কেঁদে ক্ষয় হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার কারণে তারা সারা বছরই নানা রােগে ভােগে। অথচ ওষুধ খাওয়ার পয়সা জোটে না। দারিদ্র্যের এসব চিত্রের অংশবিশেষ উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে, সম্পূর্ণটা নয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

 

প্রশ্ন ৫।

গফুর মিয়া আজ সাত দিন ধরে জ্বরে বিছানায় পড়ে আছে। কাজে যেতে পারে না। ঘরে একটি দানাও নেই যে মা-মরা দশ বছরের তার ছােট্ট মেয়ে আয়শা খেয়ে বাঁচবে। নিজেও উঠতে পারে না। এরই মাঝে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। ঘরের চাল এবার টাকার অভাবে ছাওয়া হয়নি। বৃষ্টির পানিতে ঘর ভেসে যাওয়ার উপক্রম। মেয়েটার মুখের দিকে তাকালে তার চোখ পানিতে ভরে আসে। গায়ে তালি দেওয়া জামা, মুখটা খেতে না পেয়ে শুকনাে ও শীর্ণ হয়ে গেছে। সেদিন বিকেলে স্কুলের নতুন শিক্ষক করিম সাহেব এসে বলে, গফুর ভাই আজ তােমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাব। গ্রামের অনেকে তােমার জন্য সাহায্য করেছে। আর তােমার মেয়ে আয়শার লেখাপড়ার সব দায়িত্ব আমার। তুমি ভালাে হয়ে উঠবে।

ক. আসমানির গায়ের রং কেমন ছিল?

খ. আসমানির চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে কেন?

গ. উদ্দীপকের আয়শার সঙ্গে ‘আসমানি’ কবিতার কার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

ঘ. উদ্দীপকের করিম সাহেবের চেতনা ও কর্মকাণ্ডে ‘আসমানি’ কবিতার মূল উদ্দেশ্যটি ধরা পড়েছে।” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

৫নং প্রশ্নের উত্তর

ক। আসমানির গায়ের বন ছিল সােনালি।

খ। ক্ষুধার যন্ত্রণায় আসমানির চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।

আসমানি হতদরিদ্র গ্রাম্য মেয়ে। অভাবের তাড়নায় তাকে প্রায়ই অনাহারে থাকতে হয়। খেতে না পেয়ে তার বুকের হাড় বেরিয়ে গেছে, মুখের হাসি মলিন হয়েছে, ডােমর-কালাে চোখে হাসির বদলে রাশি, রাশি অশু ঝরে পড়ে। উদ্ধৃত চরণে এই ভাবই বােঝানাে হয়েছে।

গ। উদ্দীপকের আয়শার সঙ্গে ‘আসমানি’ কবিতার আসমানির সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

অভাব মানুষের সুপ্ত প্রতিভাকে ধ্বংস করে দেয়। এর প্রভাব বেশি পড়ে শিশুদের ওপর। যে সময় তারা হেসে-খেলে বেড়াবে সেই সময় তারা খাদ্যান্বেষণে বের হলে তাদের প্রতিভা বিকশিত হয় না।

উদ্দীপকের আয়শার দুরবস্থার সঙ্গে কবিতায় আসমানির অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে। আয়শার বাবা অসুখে পড়লে উপার্জনের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। এক রকম না খেয়েই তাদের থাকতে হয়। আসমানি’ কবিতার আসমানিও এই পরিস্থিতির শিকার। অভাবের তাড়নায় সেও প্রায়ই না খেয়ে থাকে। অভাবের যন্ত্রণা পাওয়ার দিক থেকে উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ। “উদ্দীপকের করিম সাহেবের চেতনা ও কর্মকাণ্ডে ‘আসমানি’, কবিতার মূল উদ্দেশ্যটি ধরা পড়েছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষ একে অন্যের বিপদে এগিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু স্বার্থচিন্তা মানুষকে বেশি নির্দয় করে তুলেছে। তবে সমাজে অনেকে আছেন যারা অসহায়ের প্রতি সহানুভূতিশীল। তাদের সহমর্মিতার জন্য আমাদের সমাজে এখনও শান্তি বিরাজমান।

উদ্দীপকের শিক্ষক করিম সাহেব যে দয়া ও নৈতিক দায়িত্বের পরিচয় দিয়েছেন তা এ সমাজে একান্ত কাম্য। তিনি গ্রাম থেকে চাঁদা তুলে অসুস্থ দরিদ্র গফুর মিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। তার মেয়েকে স্কুলে লেখাপড়া শেখানাের ব্যবস্থা করেছেন। এই সহানুভূতি ও সামাজিক দায়বােধের চেতনাই ‘আসমানি’ কবিতার মূল উপজীব্য।

‘আসমানি’ কবিতায় কবি হতদরিদ্র আসমানিদের জীবন-যন্ত্রণার বাস্তব ছবি এঁকেছেন। কবিতাটি পাঠের উদ্দেশ্য হলাে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবােধ এবং মানুষের প্রতি ভালােবাসার অনুভূতি প্রকাশ করা যা উদ্দীপকের করিম সাহেবের চেতনা ও কর্মকাণ্ডে ধরা পড়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।     

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button