গদ্য জ্ঞান

আকাশ গল্পের জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১। আবদুল্লাহ আল-মুতী আন্তর্জাতিক কোন পুরস্কার পেয়েছিলেন?

উত্তর : আবদুল্লাহ আল-মুতী ইউনেসকো আন্তর্জাতিক কলিঙ্গ পুরষ্কার পেয়েছিলেন।

প্রশ্ন ২। হরহামেশা আমরা যে আকাশ দেখি তা আসলে কী?

উত্তর : হরহাশেমা আমরা যে আকাশ দেখি তা আসলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঢাকনা।

প্রশ্ন ৩। ছােট মাপের আলাের ঢেউগুলােকে আমরা কী হিসেবে দেখি?

উত্তর :নীল রং হিসেবে দেখি।

প্রশ্ন ৪। কখন আকাশের রং হুবহু এক রকম থাকে না?

উত্তর : সকাল-দুপুর-সন্ধ্যায়।

প্রশ্ন ৫। মহাকাশযান থেকে দিনরাত কী.তােলা হচ্ছে?

উত্তর : পৃথিবীর ছবি।

প্রশ্ন ৬। দূরদেশের সঙ্গে যােগাযােগ আজ কেমন হয়ে উঠেছে?

উত্তর : অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।

প্রশ্ন ৭৷ ‘মিশেল’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : ‘মিশেল’ শব্দের অর্থ বিভিন্ন বস্তুর মিলন, মিশ্রণ।

প্রশ্ন ৮। ‘ঠিকরে’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : “ঠিকরে’ শব্দের অর্থ ছিটকে, ছড়িয়ে।

প্রশ্ন ৯৷ আকাশ নিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রথম দিকে কীভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন?

উত্তর : শূন্যে বেলুন পাঠিয়ে বা যন্ত্রপাতিসুস্থ রকেট পাঠিয়ে।

প্রশ্ন ১০। সংকেত’ অর্থ কী?

উত্তর : ইতিগত বা ইশারা।

প্রশ্ন ১১। মানুষ পৃথিবী ছাড়িয়ে কোথায় যেতে পেরেছে

উত্তর : মানুষ পৃথিবী ছাড়িয়ে চাদে যেতে পেরেছে।

প্রশ্ন ১২। সাদা মেঘে কী রয়েছে?

উত্তর : সাদা মেঘে রয়েছে অসংখ্য পানির কণা।

প্রশ্ন ১৩। সূর্যের আলাে কিসের ভেতর দিয়ে আসতে পারে না?

উত্তর : সূর্যের আলাে বড় পানির কণার ভেতর দিয়ে আসতে পারে না।

প্রশ্ন ১৪। বায়ুমন্ডলে প্রায় কতটি বর্ণহীন গ্যাসের মিশ্রণ রয়েছে?

উত্তর : বায়ুমণ্ডলে প্রায় কুড়িটি বর্ণহীন গ্যাসের মিশ্রণ রয়েছে।

প্রশ্ন ১৫। পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের ঢাকনাকে আমরা কী বলি?

উত্তর : পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঢাকনাকে আমরা আকাশ বলি।

প্রশ্ন ১৬। আকাশ নীল দেখায় কেন?

উত্তর : বায়ুমণ্ডলে নানা গ্যাসের অণু ছড়িয়ে থাকার কারণে আকাশ নীল দেখায়।

প্রশ্ন ১৭। সূর্যরশ্মিকে কিসের স্তর পেরিয়ে আসতে হয়?

উত্তর : সূর্যরশ্মিকে বিশাল হাওয়ার স্তর পেরিয়ে আসতে হয়।

প্রশ্ন ১৮। দুপুরবেলা সূর্যরশ্মি হাওয়ার স্তরকে কীভাবে ভেদ করে?

উত্তর : দুপুরবেলা সূর্যরশ্মি হাওয়ার স্তরকে লম্বভাবে ভেদ করে।

প্রশ্ন ১৯। পৃথিবীর কত উপরে প্রায় হাওয়া নেই বললেই চলে?

উত্তর : পৃথিবীর দেড়শ-দুইশ মাইল উপরে প্রায় হাওয়া নেই বললেই চলে।

প্রশ্ন ২০। টেলিফোন আর টেলিভিশনের সংকেত কোথা থেকে ঠিকরে দেওয়া হচ্ছে?

উত্তর : টেলিফোন আর টেলিভিশনের সংকেত মহাকাশ থেকে ঠিকরে দেওয়া হচ্ছে।

প্রশ্ন ২১। আবদুল্লাহ আল-মুতী কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর : আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ  করেন।

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

 

প্রশ্ন ১। সবসময় আকাশের রং একরকম থাকে না কেন?

উত্তর : পৃথিবীর উপরকার বায়ুমণ্ডলের কারণে সব সময় আকাশের রং একরকম থাকে না।

সূর্য থেকে যে আলাে আমাদের পৃথিবীতে এসে পড়ে, তা পৃথিবীর উপরের বিশাল স্তর পেরিয়ে আসে। দুপুরবেলা এ আলাে সরাসরি লম্বভাবে এসে পড়ে হাওয়ার স্তর ভেদ করে। সকালে বা সন্ধ্যায় একই আলাে আসে তেরছাভাবে হাওয়ার স্তর ভেদ করে। এই স্তরকে আলাের ডিঙিয়ে পার হয়ে আসতে হয় দুপুরের তুলনায় অনেক বেশি। সকালে এবং সন্ধ্যায় মেঘ আর হাওয়ার ধুলাের কণার ভেতর দিয়ে আসতে পারে শুধু সূর্যের লাল আলাে। আর ঝড়-বৃষ্টির সময় আকাশ বড় বড় মেঘে আচ্ছন্ন থাকে বলে আলাে তার ভেতর দিয়ে আসতে পারে না। তখন আকাশ কালাে দেখায়। এসব কারণেই আকাশের রং সবসময় একরকম থাকে না।

প্রশ্ন ২। আকাশ নীল দেখায় কেন? বুঝিয়ে দাও।

উত্তর : বায়ুমণ্ডলে নানা গ্যাসের অণু ছড়িয়ে আছে বলে আকাশ নীল দেখায়।

আকাশ আসলে বর্ণহীন গ্যাসের মিশেল। আকাশ নীল দেখায় বায়ুমণ্ডলে নানা গ্যাসের অণু ছড়িয়ে আছে  বলে। এসব গ্যাসের কণা খুব ছােট মাপের আলাের ঢেউ সহজে ঠিকরে ছিটিয়ে দিতে পারে। এই ছােট মাপের আলাের ঢেউগুলােই আমরা দেখি নীল রং হিসেবে। অর্থাৎ পৃথিবীর ওপর হাওয়ার স্তর আছে বলেই পৃথিবীতে আকাশকে নীল দেখায়।

প্রশ্ন ৩। আকাশের নীল চাঁদোয়াটা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলােচনা কর।

উত্তর : আকাশের নীল চাঁদোয়াটা সম্পর্কে আগে মানুষের বিভিন্ন রকমের ধারণা ছিল।

আজ আমরা জানি, আকাশের নীল চাঁদোয়াটা সত্যি সত্যি কঠিন কোনাে জিনিসের তৈরি নয়। আসলে এ নিতান্তই গ্যাস-ভর্তি ফাকা জায়গা। হরহামেশা আমরা যে আকাশ দেখি তা হলাে আসলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঢাকনা। সেই বায়ুমণ্ডলে রয়েছে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড এমনই গােটা কুড়ি বর্ণহীন গ্যাসের মিশেল। আর আছে পানির বাম্প আর ধুলাের কণা।

প্রশ্ন ৪। “আকাশ নেই, ভূপৃষ্ঠে, এমন জায়গা কল্পনা করা শক্ত” – ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : “আকাশ নেই, ভূপৃষ্ঠে এমন জায়গা কল্পনা করা শক্ত’- উক্তিটি দ্বারা আকাশের বিশালতা ও বিস্তৃতি বােঝানােনা হয়েছে।

গাছপালা, নদীনালা, ঘরবাড়ি ইত্যাদি উপাদান পৃথিবীর সর্বত্র দেখা যায় না। কারণ বস্তুর স্থানগত তারতম্য আছে। সাগরে শুধুই পানি, বনে শুধুই গাছ দেখা যায়। কিন্তু পৃথিবীর এমন কোনাে স্থান নেই, যেখান থেকে আকাশ দেখা যায় না। আলােচ্য উক্তি দ্বারা এটাই বােঝানাে হয়েছে।

প্রশ্ন ৫। আকাশের রূপভেদ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : আকাশ সময় ও ঋতুর ভিত্তিতে বিভিন্ন রূপে নিজেকে উপস্থাপন করে। সব সময় আকাশের রং এক রকম থাকে না।

দিনের বেলায় সাধারণত আকাশের রং নীল দেখা যায়। আবার সন্ধ্যায় আকাশে লাল রং ছড়ায়। রাতের আকাশ কালাে হয়। বর্ষার সময় আকাশের রং ঘােলাটে, আবার শরতে থাকে পরিষ্কার। অর্থাৎ ঋতু ও সময়ের তারতম্যের কারণে আকাশের রং বদলায়।

প্রশ্ন ৬। আকাশ সম্পর্কে আগেকার লােকের ধারণা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : আগেকার দিনে মানুষ আকাশ সম্পর্কে নানা অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক ধারণা পােষণ করত।

অতীতে আকাশ সম্পর্কে মানুষের মনে বিভিন্ন ধারণা কাজ করত। কেউ ভাবত, আকাশ খুব শক্ত একটা ঢাকনা। আবার কারও মনে হতাে, আকাশটা পরতে পরতে ভাগ করা। বর্তমানে বিজ্ঞানের যে জোয়ার এসেছে, পূর্বে তা ছিল না। তখন মানুষ কল্পনা করতে ভালােবাসত। আকাশও তাদের কাছে রহস্যের আধার ছিল।

প্রশ্ন ৭। দূর দেশের সঙ্গে যােগাযােগ অনেক সহজ হয়েছে কীভাবে?

উত্তর : উপগ্রহের মাধ্যমে দূর দেশের সঙ্গে যােগাযােগ অনেক সহজ হয়েছে।

আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞান অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। আগেকার দিনে মানুষের কাছে যা ছিল কল্পনাতীত, বিজ্ঞান আজ তা বাস্তবে পরিণত করছে। এক দেশ থেকে অন্য দেশে যােগাযােগ করতে আগের দিনে অনেক সময় ও শ্রম ব্যয় হতাে, কিন্তু বর্তমানে এটা মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যাপার। বিজ্ঞানের উৎকর্ষই এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। উপগ্রহের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে টেলিফোন ও টেলিভিশনের সংকেত পাঠানাের ফলে দূর দেশের সাথে যােগাযােগ অনেক সহজ হয়েছে।     

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button